DMCA.com Protection Status
ADS

এসকর্ট গার্ল: অনলাইন যৌনপল্লী নাকি প্রতারণার ফাঁদঃ এখনই ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন

escort-girlইন্টারনেটের কল্যাণে দেশে এখন ঘরে বসেই চাল-ডাল থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসহ প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটা সারা যাচ্ছে। ই-কমার্স নামে নতুন ব্যবসায়িক ধারণারও বিকাশ ঘটছে দ্রুত। ঠিক এই সহজলভ্যতা ও গোপনীয়তারই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু লোকেরা।

বাংলাদেশে হয়ত এখনো কোনো পর্নো সাইট কেউ চালু করার সাহস করেনি। কিন্তু বেশক’টি সাইট ইতিমধ্যে চালু হয়েছে যেগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে দেহব্যবসা। অবশ্য এটা প্রতারণার ফাঁদ কি না সেটা বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রশাসনের কাছে এগুলোর ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।

এই সাইটগুলোতে অনলাইনে অর্ডার নেয়া হয়। আর অর্ডার পেলে জায়গামতো কাঙ্ক্ষিত তরুণীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অথবা চাইলে তারাই সব ব্যবস্থা করে দেয়।

এসব যৌনকর্মীর পোশাকি নাম দেয়া হয়েছে ‘এসকর্ট গার্ল’। কমপক্ষে চারটি ওয়েবসাইট পাওয়া গেছে যারা এই এসকর্ট গার্লের ব্যবসা করছে। এসব ওয়েবসাইটে তরুণীদের যৌনাবেদনময় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিষ্কার ভাষায় এসব নারীর ছবিসহ চুল থেকে পায়ের নখের বিবরণ দেয়া আছে। এমনকি ছেলে এসকর্ট চাইলেও পাওয়া যায়। মেয়েদের মতো তাদেরও আকর্ষণীয় ছবিসহ বর্ণনা রয়েছে।

ওয়েবসাইটগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, এখানে দু’টি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে এইএসকর্ট গার্লদের। এদের বলা হচ্ছে ‘হাইক্লাস এসকর্ট গার্ল’। এর একটি এপ্লাস ক্যাটাগরি, আর অন্যটি ডাবল এপ্লাস ক্যাটাগরি। ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির এই মেয়েদের ছবির পাশেই ডলারে এবং টাকায় লেখা রয়েছে এদের সঙ্গ পেতে চাইলে কেমন খরচ লাগবে।

তবে এই এসকর্ট গার্লদের পেতে হলে বিকাশ বা পে-অ্যাবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বুকিং মানি অগ্রিম পাঠাতে হবে। তারপর নির্ধারিত এজেন্সি থেকেই ফোন করে পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া হবে। কেউ যদি বাসা বা হোটেলে নেত চায় তাহলে সেই ঠিকানা এজেন্সিকে দিলে এসকর্ট গার্ল পৌঁছে যাবে জায়গামতো। আর যদি হোটেল বা বাসার ব্যবস্থা না থাকে, সেক্ষেত্রে এজেন্সির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে সব ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

ঠিক এমনই একটি ওয়েবসাইটে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সুমন নামে এক ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলে দাবি করেন। কেমন এসকর্ট গার্ল আছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো বলেন, ‘আপনার কেমন এসকর্ট গার্ল লাগবে? যেমন চান, ঠিক তেমনই দেয়া যাবে।’ কোথায় আসতে হবে জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘ওয়েবসাইটে দেয়া নম্বরে আগে বুকিং মানি পাঠিয়ে দেন। তারপর আমরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করব।’ অগ্রিম টাকা নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই বাসের টিকেট কাটতে গেলেও এখন অগ্রিম বুকিং দেয়া লাগে।’

এসকর্ট গার্লদের অন্য একটি এজেন্সিতে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেস্ক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান অবশ্য অগ্রিম বুকিং মানির ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আপনি সোজা উত্তরা হাউজবিল্ডিং এর সামনে এসে ফোন দেন।’

কেমন এসকর্ট গার্ল আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মডেল থেকে শুরু করে নিউজ প্রেজেন্টার পর্যন্ত দেয়া যাবে। মূলত টাকার অংকের ওপর নির্ভর করে আপনাকে এসকর্ট গার্ল দেয়া হবে।’

কেমন টাকা লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরুন আপনি যদি ডাবল এপ্লাস ক্যাটাগরির এসকর্ট গার্ল চান, তাহলে লাগবে বাংলা টাকায় ৪০ হাজার। আর এপ্লাস ক্যাটাগরির এসকর্ট গার্ল চাইলে লাগবে ২৪ হাজার টাকা।’

ওয়েবসাইটগুলোতে গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারেও বেশ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ কথা লেখা আছে। যে কোনো বয়সী নারী চাইলেই এজেন্সির উল্লেখিত ইমেইল ঠিকানায় দুই কপি ছবিসহ সিভি পাঠিয়ে দিতে পারে। পরে এজেন্সি তার সাইটে আগ্রহী নারীর ছবিসহ তার সার্বিক তথ্য সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে।

কোনো খদ্দের যদি সেই বিজ্ঞাপন দেখে সাড়া দেয়, তাহলে এজেন্সি থেকে নির্ধারিত সেই এসকর্ট গার্লকে ফোন করে চুক্তির কথা জানানো হবে। পরে সেই চুক্তি অনুযায়ী এজেন্সির দেয়া ঠিকানা মতো পৌঁছে যাবে এসকর্ট গার্ল। অবশ্য আগেই সে পেয়ে যাবে অর্ধেক পেমেন্ট। বাকি অর্ধেক পাবে কাজ হওয়ার পর। আর এজেন্সিকে দেয়া লাগবে নির্ধারিত একটি কমিশন। তবে কমিশনের অংকটা কত সে ব্যাপারে সাইটগুলোতে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।

এভাবে অবাধে অনলাইনে যৌন ব্যবসা চললেও প্রশাসন সে ব্যাপারে এখনো ততোটা তৎপর নয়। তাদের এরকম সব ওয়েবসাইটের ব্যাপারে কোনো তথ্যও নেই। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে ‘খোঁজখবরের’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের তৎপরতা। আর এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যৌনব্যবসা নাকি প্রতারণা করা হচ্ছে সে ব্যাপারেও কোনো তথ্য নেই।

এ বিষয়ে কথা বলতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) ডিসি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেগুলো খতিয়েও দেখা হচ্ছে। তবে এখনো এমন কোনো এজেন্সির দেখা আমরা পাইনি।’

উল্লেখিত, সম্প্রতি চীনে এসকর্ট গার্ল নামে নতুন পেশার বিকাশ ঘটেছে। এক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ী বা পেশাদারের সঙ্গে হোটেলে বা পর্যটন এলাকায় সঙ্গ দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীরা। এটি শুধুই সঙ্গ দেয়া। এছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেও এ পেশা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে একই নামে এ ব্যবসা চললেও সেটা নির্ভেজাল দেহব্যবসাই! অবশ্য হতে পারে প্রতারণার মোক্ষম ফাঁদও!!

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!