DMCA.com Protection Status
ADS

বর্ষবরণের যৌন নিপীড়করা কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় :ডিএমপি মূখপত্র মনিরুল ইসলাম

dbবর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত ১০/১২ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। 
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের  (গোয়েন্দা) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। 
 
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে ১০/১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের প্রকৃত নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। জানতে পারলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 
 
যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তারা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। 
 
তিনি বলেন, নির্যাতনকারীরা সবাই বহিরাগত। কারণ এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসে। হয়তো তাদের মধ্যে কোনো একটি দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা ফুটেজের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও নারী নির্যাতনকারীদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। সবগুলো যাচাই বাছাই করে অন্তত ১০/১২জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। 
 
মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনায় জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। আমাদের পক্ষ থেকেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিমও গঠন করা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 
 
ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পর কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। তারা যৌন নিপীড়কদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। তবে তারা নিশ্চিত হন নারী লাঞ্ছনাকারী বখাটেরা বহিরাগত। তারা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। 
 
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা ওই দিনের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বখাটেদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের জন্য আলাদা কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে। 
 
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাক আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। 
 
পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টিএসসি এলাকায় কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। এ ঘটনায় পরের দিন ১৫ এপ্রিল শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। 
 
ঘটনার অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ইব্রাহিম ফাতেমি, যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিক অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) ওয়াই এম বেলাল হোসেন ও উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর। 
 
এদিকে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে। সবশেষ গত রোববার (১০ মে) ছাত্র ইউনিয়ন ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের নায়েক আনিসকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!