DMCA.com Protection Status
ADS

বাংলাদেশের ইয়াবা সম্রাট বদির বদ কাহিনী

 ABDUR-Rahman-Bodi-pic0003-e1413121819354কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির উত্থান এক যুগ আগে হলেও আলোচনায় উঠে এসেছেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে।বাংলাদেশের ইয়াবা সম্রাট নামে অভিহিত এই বদির কারনেই ব্যাপকহারে ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের ব্যাপক প্রচলন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টগন মনে করেন।

গত ৫ জানুয়ারি ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

সর্বশেষ অবৈধ সম্পদ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রোষানলে পড়েন। সেই সঙ্গে ইয়াবা পাচারের গড়ফাদারের ভূমিকার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

মারধরে বদি: গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বদি। এর আগে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র থাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। তবে এমপি হওয়ার পরে হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। একের পর এক ঘটিয়ে চলেন বিতর্কিত সব ঘটনা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে কেউই বাদ যাননি বদির লম্বা হাত থেকে। লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দেয়ার গুনের জন্যই সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠেন বদি।

২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারি টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে চাচা মো. ইসলামের জন্য ভোট কারচুপিতে বাধা দেয়ায় এমপি বদির মারধরের শিকার হন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর একে একে তার হতে মার খেতে হয়েছে শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী বনকর্মকর্তাদের। সর্বশেষ বদির হাতে লাঞ্ছিত হন নিজ দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি। ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বদির অনুরোধে সাড়া না দেয়ায় বীর বাহাদুরকে লাঞ্ছিত হতে হয়।

ইয়াবা গড়ফাদার! দেশে বর্তমান সময়ের প্রধান ও আলোচিত মাদক ইয়াবার নাম উঠলেই এমপি বদির প্রসঙ্গ উঠে আসে। জনশ্রুতি আর অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের শুরুতেই এমপি বদি তার লোকজন দিয়ে মিয়ানমার থেকে মরণনেশা ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার শুরু করেন। সেই থেকে পুরো বাংলাদেশ ইয়াবায় সয়লাব হয়ে যায়। তিনি আড়ালে থেকে তার ভাই, বোন, ভাগিনা, বেয়াই ও কর্মীদের দিয়ে ইয়াবা পাচার চালিয়ে আসেন। বদি গড়ফাদার হিসেবে অন্তরালে থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ইয়াবা পাচারকারীর তালিকার শীর্ষে রয়েছে বদির ভাই মো. আবদুল শুক্কর ও মৌলভী মুজিবুর রহমান, দুই সৎভাই আবদুল আমিন ও ফয়সাল রহমানের নাম। এ চার ভাইকে দিয়ে এক অপ্রতিরোধ্য ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন আবদুর রহমান বদি। চার ভাই ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমপি বদির স্ত্রী সাবেকুন্নাহার সাকী, বেয়াই আখতার কামাল, শাহেদ কামাল, মামা হায়দার আলী ও মামাতো ভাই কামরুল ইসলাম রাসেল।

এছাড়া পারিবারিক এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করেছেন বোনের ছেলে নীপুকে। এদের সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও গত ১২ আগস্ট চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হন স্ত্রী সাবেকুন্নাহার সাকী।

দুদকের জালে: ৫ জানুয়ারির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ নিয়ে দুদকের রোষানলে পড়েন বদি। নির্বাচনী হলফনামায় দাখিল করা আয়কর নথির সঙ্গে বর্তমান সম্পদের অসামঞ্জস্য থাকায় ২৯ জানুয়ারি বদির আয়কর নথি ও হলফনামা জব্দ করে দুদক। বদির সম্পদের অনুসন্ধানে এসে দুদকের উপ পরিচালক আহসান আলী কক্সবাজার থেকে বদির হলফনামা ও আয়কর বিবরণী জব্দ করেন।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বদির হলফনামার তথ্য অনুসারে, প্রথম এমপি হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। আর নিট সম্পদ বেড়েছে ১৯ গুণের বেশি। তার এ সম্পদ অবৈধ কি-না তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, বদি গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও টেকনাফে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে এ টাকা অর্জন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, এমপি বদির বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা। এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেয়া হলফনামায় বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা।

তখন (২০০৮) বিভিন্ন ব্যাংকে আবদুর রহমানের মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা। পাঁচ বছরের মাথায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি পাঁচ লাখ ১০ হাজার ২৩৭ টাকা। তার হাতে ২০০৮ সালের নভেম্বরে নগদ টাকা ছিল দুই লাখ সাত হাজার ৪৮ টাকা। আর এখন ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এখন স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

আয়কর বিবরণীতে বদি দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৮ টাকা। আর নিট সম্পদের পরিমাণ বলা হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৩ টাকা। পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালের আয়কর বিবরণী অনুসারে, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা। আর নিট সম্পদ ছিল ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৩ টাকার।

দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে আবদুর রহমান বদির ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২১ আগস্ট বদির বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় রোববার উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!