DMCA.com Protection Status
ADS

শেষ পর্যন্ত আবদুচ ছালামই হচ্ছেন আওয়ামী লীগের চট্রগ্রাম মহানগরীর মেয়র প্রার্থী

abduch-salamআগামী এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বার চট্টগ্রামে এলেও মেয়র প্রার্থী নিয়ে কোন মন্তব্য না করায় যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের তিন নেতার সাক্ষাতের মাধ্যমে সেই ধোঁয়াশা কেটে গেছে।

মেয়র পদে লড়তে ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির সহ-সভাপতি আ জ ম নাছির উদ্দিন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম।

এর মধ্যে প্রথম তিনজনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও তিনি কাউকেই সবুজ সংকেত না দিয়ে দলের জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আগ্রহী চারজনের মধ্যে সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আব্দুচ ছালামই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সেটি অনেকটাই নিশ্চিত করেছে গণভবন সূত্র।

দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল চৌধুরী নওফেল।

বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর তার কাছে মেয়র নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘নেত্রী মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে কিছু না বলে সময় মত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন। বিএনপি জামায়াতের নাশকতা মোকাবেলায় দলকে আরো সংগঠিত করে কাজ করার পাশাপাশি ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে একটি সমাবেশ করার কথা জানিয়েছেন।’

একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দলের জন্য তার ত্যাগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে দিয়ে মেয়র পদে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিলেও মেয়র নির্বাচন নিয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে দলের জন্য কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। দলের জন্য কাজ করছি, সামনেও করবো।’

গণভবন সূত্রে জানা গেছে, গত নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে বিনা বাক্যে নিজ আসন কোতোয়ালী-বাকলিয়া ছেড়ে দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে। দলে তার এই ত্যাগের কথা চট্টগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ছিল। কেনন এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির শামসুল আলমকে হারিয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মেয়র পদে নমিনেশন না পেলে মহিউদ্দিনকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী কিংবা দলের খালি থাকা সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে নিয়োগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করায় নুরুল ইসলাম বিএসসিকেও টেকনোক্রেট কোঠায় প্রতিমন্ত্রী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর একদিন পরই বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বিসিবি সহ সভাপতি ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের। এসময় নাছির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিনারের ফাঁকে ফাঁকে আধাঘণ্টা কথা বললেও মেয়র নির্বাচন নিয়ে কোন কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী দলের সাংগঠনিক অবস্থা জানার পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সমাবেশ নিয়ে পরিকল্পনা করতে এবং বিরোধী দলের নাশকতা মোকাবেলায় মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নাছিরকে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন আ জ ম নাছির নিজেও।

অন্যদিকে নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ ওয়েল গ্রুপের কর্ণধার আবদুচ ছালামের ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগিয়ে গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রেখেছে সরকার। তাকে সিডিএ চেয়ারম্যানের পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে চট্টগ্রামে সরকারের উন্নয়নযজ্ঞে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

আবদুচ ছালাম ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল দুই বছরের জন্য সিডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিলে তার মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী তীব্র বিরোধীতার মুখেও ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ দ্বিতীয় দফা এক বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

আবদুচ ছালাম সম্প্রতি প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে সিডিএর উন্নয়ন কার্যক্রম এলাকাবাসীর সামনে তুলে ধরছেন। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো জন সম্মুখে প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা হলেও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ ও সুধী মহলে ক্লিন ও সৎ ইমেজের নেতা হিসেবে আবদুচ ছালামের পরিচিতি রয়েছে। তিনি ওয়েল গ্রুপের কর্ণধার ছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিষ্টাতা সভাপতি হিসেবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। নগরীর প্রতিটি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে দলমত নির্বিশেষে তিনি অনেক সাধারণ মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

মেয়র নির্বাচন প্রসেঙ্গ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমাদের দলের যে কেউ মেয়র নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিডিএর মাধ্যমে চট্টগ্রামে উন্নয়নের যে মহোৎসব চলছে সেটি চলমান রাখতে অন্যদের মত আমিও মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী। প্রার্থী কে হবেন তা সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আশা করছি তিনি গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে সঠিক প্রার্থীই নির্বাচন করবেন এবং দলের সকলেই তার নির্দেশ মত কাজ করবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও গণভবনের ঘনিষ্ঠ এক নেতা  জানিয়েছেন, মেয়র পদে লড়তে আগ্রহী চট্টগ্রামের তিন নেতা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর বিষয়টি স্পষ্টই হয়ে গেছে। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকেই মেয়র পদে প্রার্থী করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!