ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দীর্ঘকালীন এমপি মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় বিএনপি নেতা চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে মেয়র বলছেন, তিনি সহমর্মিতা জানাতেই সেখানে গিয়েছিলেন; নগর সেবক হিসেবে এটা তার দায়িত্বও।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আজকে একটি জানাজার কথা এসেছে। অনেকে সেটা বলছে মেয়র সাহেব গেছেন। আরেকটা গ্রুপ বলছে, কেন গিয়েছে?
“আমি আপনাদেরকে স্পষ্ট বলতে চাই, একজন মানুষ যখন মারা যায় তার কোনো দল থাকতে পারে না।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর লেডিস ক্লাবে বুদ্ধ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন সিটি মেয়র।
তিনি বলেন, “উনি (মোশাররফ হোসেন) আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। ওই স্রষ্টার কাছে চলে গেছেন। উনার (স্রষ্টার) নির্দেশেই উনি চলে গেছেন। কাজেই তার প্রতি সহমর্মিতা দেখানো, তার জানাজায় যাওয়া, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একজন নগর সেবক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।”
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজায় অংশ নেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
জানাজায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা হতেই তার দলের নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। সেসময় হেঁটে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন মেয়র।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনুসারীদের মিছিল-স্লোগান নিয়ে মেয়র বলেন, “সেখানে তারা যে কাজটি করেছে…যেহেতু আমরা মুসলমান, মুসলমানরা যখন একটা জানাজা শেষে যাবে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে পড়ে যেতে হবে।
“কিন্তু দলীয় স্লোগানটার কারণে আজকে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যে কাজগুলো করা উচিত নয়, সে কাজ যাতে তারা না করে।”
শাহাদাত হোসেন বলেন, “একসময় আওয়ামী লীগ জানাজা পড়তে দিতে দেয়নি। তারা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান সে ব্যবস্থা করেছেন। একজন পরম শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদের জানাজায় সিকিউরিটি ফোর্সেস নিয়োগ করে তার জানাজা যাতে সুন্দরভাবে হয় সেটা ব্যবস্থা করেছেন।
“কিন্তু জানাজা যারা পড়েছেন, তারা যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেওয়াটা কি তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে বা নৈতিকতার মধ্যে পড়েছে? তারা সেখানে যদি ধর্মীয়ভাবে যেটা বলার কথা, কালেমা শাহাদাত পড়ে পড়ে যদি তারা যেতে পারতেন এটাই মানুষ গ্রহণ করত।”
তিনি বলেন, “মানুষ তাদের (আওয়ামী লীগ অনুসারীদের) আজকে ওই জায়গায় গ্রহণ করেনি। কাজেই বলতে চাই, ধর্মকে ধর্মের জায়গায় রাখতে হবে। রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় রাখতে হবে। ধর্ম এবং রাজনীতিকে এক জায়গায় কখনো মেশানো যাবে না। যারা করে তারা ধর্ম ব্যবসায়ী। অপরাজনীতি তারা করে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে মিছিল করার ওই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানা ও খুলশী থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।





