DMCA.com Protection Status
ADS

চৌদ্দগ্রামের বাসে জগন্য হামলায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সংশ্লিস্টতার প্রমান পাওয়া গেছে

2020কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী আইকন পরিবহনের বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে রেলমন্ত্রীর নির্দেশে এমন প্রমান পাওয়া গেছে।

এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও ২ জন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি গাড়িতে  আগুন জ্বলতে দেখে তারা ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে রেলমন্ত্রীর লোকেরা তাদেরকে যেতে দেয়নি। রেলমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের কর্মীরা গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরেছে বলেও জানান তারা।


এলাকাবাসীরা জানায়, ঘটনাস্থলটি রেলমন্ত্রী মজিবুল হকের সমর্থকদের এলাকা। রেলমন্ত্রীর ভোট ব্যাংক হিসেবে এলাকাটি পরিচিত। সম্প্রতি বিরোধীজোটের কর্মকান্ড দমনের জন্য রেলমন্ত্রী মজিবুল হক ছাত্রলীগ কর্মীদের রাস্তায় পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই নির্দেশ দিয়েছেন ফেনী থেকে নির্বাচিত এমপিও। তাদের নির্দেশনা পেয়ে গত কয়েক দিন থেকে ফেনী ও চৌদ্দগ্রাম মহাসড়কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা।


স্থানীয়রা জানায়, যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সে স্থানটি সবসময় আওয়ামীলীগের দখলে থাকে। সে এলাকায় পুলিশের কারণে বিএনপি জামায়াতের কর্মীরা রয়েছে ঘরছাড়া। উল্টো রেলমন্ত্রীর সমর্থকরা দল বেধে পাহারা দেয় সেখানে।


দল বেধে পাহারা দেওয়ার সময় রাত ৩.৩০ মিনিট এ কিভাবে বাসে পেট্রোলবোমা হামলা হতে পারে? কিভাবে বিএনপি-জামায়াত তাদের সামনে এ নাশকতা করবে- এ প্রশ্ন এখন কুমিল্লার সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।


যেহেতু বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ও তারা কেউ এলাকায় থাকতে পারছে না তাই তাদের পক্ষে ছাত্রলীগের পাহারার মাঝে নাশকতা করা অসম্ভব। আর এই সুযোগেই বিরোধী জোটের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মহাসড়কে পাহারা দেওয়া ছাত্রলীগের কর্মীরা বাসে পেট্রোলবোমা মেরেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।


ঘটনার পর যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা নিরিহ বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। কারণ যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা যদি এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকতো তাহলে অবশ্যই পালিয়ে যেতো। সরকার সত্যিকার অপরাধীদের আড়াল করতেই অন্যদের গ্রেফতার করেছে বলেও দাবি করেন তারা।


রেলমন্ত্রীর এক সহকারী সব তথ্য ফাঁস করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রীর (রেল) নির্দেশে ছাত্রলীগের কর্মীরা আইকন বাসে পেট্রোলবোমা মেরেছে। প্রত্যক্ষদর্শী না রাখতে গভীর রাতকে বেছে নেয়া হয়। যে স্থানে বাসে বোমা মারা হয়েছে সে স্থানটি আওয়ামীলীগের সম্পূর্ণ দখলে। বিএনপি- জামায়াত সেখানে রাস্তায় নামারও ক্ষমতা নেই। বাসে আগুনতো দূরের কথা। এ হামলার কারণে হামলাকারীদের ১ লাখ টাকা পুরষ্কার দেয়া হয়েছে।


এদিকে নাগরিকরা বলছেন, কুমিল্লার এ হত্যাকান্ডের প্রধানত দায় সরকারকেই নিতে হবে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে জোর করে রাস্তায় গাড়ি নামতে বাধ্য করে মানুষকে মিথ্যা নিরাপত্তার কথা বলে এভাবে হত্যা করেছে। এই দায় সরকারের। তারা মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ঘর থেকে বের করিয়েছে। আর সরকারের বক্তব্য অনুযায়ি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিরাপত্তায় রাস্তায় বাস চলছে। তাহলে তাদের নিরাপত্তার মধ্যে এ ঘটনা তারাই করেছে বা তাদের ইশারায় হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।

 

সরকার ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বারবার করে বলেছে তারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বাস চালাচ্ছে। তাহলে কুমিল্লার মতো জায়গায় কিভাবে তাদের অজ্ঞাতে এ ঘটনা ঘটে? বিজিবির মহাপরিচালক বলেছেন, পুরো রাস্তাতেই গাড়িগুলোর সামনে পিছে বিজিবির গাড়ি থাকে তাহলে কিভাবে এ ঘটনা ঘটলো?

তাহলে এটা পরিস্কার যে এ ঘটনার সাথে সরকার ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী জড়িত। আর এসব ঘটনাগুলোতে একটি কমন বিষয় লক্ষণীয়, আগুনে যারা দগ্ধ হচ্ছেন তাদের মধ্যে মহিলা ও শিশু থাকবেই। বিরোধীজোটের আন্দোলনকে অমানবিকভাবে তুলে ধরার অপকৌশল নয় কী? গণমাধ্যমের সংবাদ ও টকশোগুলো দেখলেই সেটা প্রতীয়মান হয়। সরকার কোন কারণে এসব হত্যাকান্ড চালাচ্ছে।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!