DMCA.com Protection Status
ADS

হাইতির ভয়াবহ বেকারত্ব সমস্যা সমাধান-চেষ্টায় ড. ইউনূস

dr_yunus-300x247সম্প্রতি বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায়ের জগত থেকে দূরে সরে গেলেও হাইতিসহ পৃথিবীর নানান দেশের দরিদ্র ও বেকারত্বরোধে সক্রিয় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি নিজের কর্মকাণ্ড ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন ড. ইউনূস। হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রবন্ধটি বাংলায় ভাষান্তরিত করে প্রকাশ করা হলো-



আমাদের সমাজের প্রবণতাই হল ব্যবসা-বাণিজ্যকে পরিবেশের শত্রু হিসেবে চিন্তা করা। ব্যবসাকে এভাবে দোষ দেওয়াটা অবশ্য অবাক করা কোন ব্যাপার নয়। বিশ্বের সমস্ত ভুলের দায় ব্যবসার ঘাড়ে তুলে দেওয়া বেশ সহজ। এমন ঘটে কারণ বেশিভাগ সময়ই ব্যবসায়ীরা পৃথিবী ও মানুষের কী ক্ষতি হতে পারে তা ভুলে গিয়ে, ব্যবসাকে যতবেশি সম্ভব টাকা রোজগারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। যাইহোক, মনে রাখা উচিত, ব্যবসা আসলে তাই, যা মানুষ ব্যবসাকে দিয়ে করাতে চায়। আপনি যদি মানুষের সমস্যা সমাধান করতে চান, তবে ব্যবসা আপনাকে তা করতে সাহায্য করতে পারে।



কিন্তু মানুষ ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসাকে এমন পথে পরিচালিত করে যা মানুষের ক্ষতি করে। আর ব্যবসাকে মানুষের উপকারে লাগানর জন্যই আমরা ‘সামাজিক ব্যবসা’ নামে নতুন ধরণের একটি ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেছি। এটি এমন এক ধরনের ব্যবসা যেখানে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনই একমাত্র লক্ষ্য থাকবে না। কারণ আমরা মনে করি, ব্যক্তিগত আর্থিক অর্জনের পাশাপাশি আরো অনেক পুরস্কার জীবনে আছে। তাই এটা এমন এক ধরণের ব্যবসা যেখানে লাভ হবে ঠিকই, কিন্তু সেই লাভটা হবে এমন, যেখানে বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাবে।

আর ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা ব্যবসায়টি বাড়ানর মাধ্যমে রিসাইকেলড করা যাবে। অথবা স্থানীয় সম্প্রদায় ও পরিবেশের উপকার হয় এমন কর্মকান্ডে ব্যয় হবে। যখন আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনে উদ্যোক্তারা সংকল্পবদ্ধ হবেন, তখন তারা স্পষ্টভাবে বুঝবেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান করাই তাদের ব্যবসার প্রাথমিক উদ্দেশ্য।



বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ও বাইরের দেশগুলোতে আমরা অনেক সামাজিক ব্যবসায় তৈরি করেছি। আমরা জেনেছি, সামাজিক ব্যবসায় শিশুদের পুষ্টি সরবরাহ(গ্রামীন ড্যানোন), সৌর শক্তি সরবরাহ(গ্রামীণ শক্তি), জনস্বাস্থ্য(গ্রামীণ জিসি আই কেয়ার হসপিটাল)সহ এর মত অসংখ্য কিছু অর্জন করতে সক্ষম।



আজ, আমরা হাইতিতে করা ‘ক্রেয়ল এসেন্স’ নামক বিশেষ একটি সামাজিক ব্যবসায়ের কথা আপনাদের বলতে চাই। বিশ্বের যেসকল দেশ বনায়ন ধ্বংসের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে, হাইতি তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম দেশ। সেখানে বনায়ন ধ্বংসের হার বর্তমানে ৯৮.৫ শতাংশ। দারিদ্রের চরম পীড়নে হাইতির রাষ্ট্রজনেরা রান্নার কাজে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের জন্য গাছ কাটতে বাধ্য হচ্ছে। বনায়ন ধ্বংসের ফলে সময় গড়ানর সাথে সাথে ভূমিক্ষয় বাড়ছে ও কৃষিজমির উর্বরতা কমছে। হাইতির এই পরিস্থিতি এক পঙ্কিল চক্রে পরিণত হয়েছে।



ক্রেয়ল এসেন্সের বাণিজ্যিক মডেলটি চিনতে পেরেছে, বৃক্ষরোপণের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার আগে হাইতির লোকদের চাকরি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। দেশটিতে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ এবং হাইতি হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন আয়ের দেশ।



আমাদের বিনিয়োগের মূলধনের প্রথম অংশটি বেড়েছে কিভা ডট অরগানাইজেশনে। এটি এমন একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোক্তাদেরকে বিশ্বের যেকোন ব্যক্তির ঋণ দেয়ার অনুমতি দেয়। ঋণের পরিমাণ অনেক কম, এমনকি ২৫ ডলারও হতে পারে। চলতি বছরের ১৬ জুন মধ্যরাতে আমরা লোনটির বিষয়ে সাহায্য চেয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম। অবিশ্বাস্যভাবে, তিন দিনেরও কম সময়ে বিশ্বের ৩ হাজারের মত মানুষের কাছ থেকে আমরা ১ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছি। এটিই ছিল কিভাতে এই সময়ে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় লোন! আমরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। এর ব্যাখ্যা হল এই, সাধারণ লোকজনও একটি মহৎ সামাজিক ব্যবসার ধারণার পেছনে টাকা ঢালতে ইচ্ছুক।



সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন ব্যবসায় শুধুমাত্র টেকসই-ই নয়, বরং অনেক জনপ্রিয় বিনিয়োগ প্রস্তাবও বটে!



বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা সমাধান করতে পারে এমন নানান সামাজিক ব্যবসায়ের উদাহরণ দেখতে চাইলে ভিজিট করুন ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস পোর্টফোলিও’। ওয়াইএসবি(ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস)-র প্রতিষ্ঠায় নোবেল বিজয়ী ড.মুহম্মদ ইউনূসের সাথে আমরাও ছিলাম। এর উদ্দেশ্য সারাবিশ্বের সামাজিক ব্যবসায়গুলোতে বিনিয়োগ করা ও সমর্থন দেয়া। ওয়াইএসবি থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করা ৩০টি দেশের মধ্যে একটি হল হাইতিতে করা ক্রেয়ল এসেন্স।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!