ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজু: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া আজ দেশের ভেতরে এবং প্রবাসে এক অনন্য মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সক্রিয় ও অগ্রণী সদস্য হিসেবে তিনি শুধু দলকে সংগঠিত করাই নয়, বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি উজ্জ্বল করে তুলেছেন।
কোভিড-১৯ মহামারিতে অনন্য মানবিক ভূমিকা :
২০২০ সালের বৈশ্বিক করোনা সংকট মানব সভ্যতার এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ। বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতিতে বিপর্যস্ত—তখনই আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, অক্সিজেন, পিপিই, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। কেবল দেশেই নয়—আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার মানবিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি মিলেছে।
তার নেতৃত্বে মানবসেবার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় নাইজেরিয়ায়। ওইও স্টেটের তৎকালীন গভর্নর সেনেটর আবিওলা আজিমোবি করোনায় আক্রান্ত হলে নাইজেরিয়া সরকার জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের তৈরি বিশেষ করোনা প্রতিরোধী ইনজেকশন সরবরাহের অনুরোধ জানায়—এবং তা যেন আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে নির্দেশও প্রদান করা হয়।
তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বৈশ্বিক আকাশপথ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিমান বাংলাদেশে এসে তার কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে। শুধু ওষুধই নয়, সীমিতসংখ্যক পিপিই ও সুরক্ষা সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়। এটি একজন বাংলাদেশির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বিরল স্বীকৃতি—যা পুরো জাতির জন্যই গর্বের।
বৈশ্বিক পানি নিরাপত্তা ও ‘ব্লু গোল্ড ইকোনমি’তে দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব :
বিশ্বব্যাপী পানিসংকট এখন নবতর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। এই সংকট মোকাবিলায় আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফোরামে সরব। তার দৃষ্টিভঙ্গি—বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানির ভাণ্ডার হিসেবে বৈশ্বিক ‘ব্লু গোল্ড ইকোনমি’-এর নেতৃত্ব দিতে পারে।
তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে
বোতলজাত পানি রপ্তানি,
পানি কূটনীতি,
জলবায়ু-সহনশীল পানি অবকাঠামো,
আন্তদেশীয় পানি সহযোগিতা
—বিষয়ে নীতি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। তার প্রস্তাবনাগুলো বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে শুধু ভুক্তভোগী নয়, বরং বৈশ্বিক পানি সংকটের সমাধানদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ভিত্তি তৈরি করছে।
(সূত্র: মানবজমিন, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক সরোদ, দি ট্রাইবুনাল, আরটিভি অনলাইন, তরঙ্গ নিউজ, দৈনিক জনকণ্ঠ, ওয়ান বাংলা নিউজ)
বায়ুদূষণ ও জলবায়ু অভিযোজনে সক্রিয় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ :
পানি সংকটের মতোই বায়ুদূষণ এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের প্রধান হুমকি। আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া জীবাশ্ম জ্বালানি নীতি সংস্কার, সবুজ নগরায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক গবেষক ও সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তার লক্ষ্য—একটি পরিবেশবান্ধব, স্থিতিশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ।
রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখেও অদম্য প্রত্যয় :
তার জনসম্পৃক্ততা, জনপ্রিয়তা ও সংগঠন ক্ষমতা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ও তার সহকারী আজাদকে গুম করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদের চাপে অবশেষে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার।
তবে এই নির্যাতন ও বন্দিদশার ধকলেই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন এবং পরে তার হৃদপিণ্ডে দুটি রিং প্রতিস্থাপন করতে হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবুও রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে তাকে বিরত করা যায়নি—বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি মাঠে ফিরেছেন।
বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ভিশন :
আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তিনি ভুঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান—যা বাংলাদেশ ও বিদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করছে। ব্যবসায়িকভাবে তিনি গার্মেন্টস, আইটি, রিয়েল এস্টেট, আমদানি-রপ্তানি, আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্সিসহ বিস্তৃত খাতে সক্রিয়।
তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান “গেলেন্স” আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করে বিভিন্ন খাতের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন মডেল তৈরি করে।
তিনি বিশ্বাস করেন—বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও পানিসমস্যা আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকার রক্ষায়ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
বাংলাদেশের জন্য এক সম্ভাবনার সম্পদ :
আজকের বিশ্বে রাজনীতি আর কেবল দেশীয় সীমাবদ্ধতার বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক সংযোগ, মানবিক উদ্যোগ, বৈশ্বিক অংশগ্রহণ এখন এক নেতার মানদণ্ড। সেই বিবেচনায় আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বাংলাদেশের এক মূল্যবান সম্পদ—একজন প্রগতিশীল, আধুনিক, আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত নেতা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে তা শুধু কসবা–আখাউড়া বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুনামই বাড়াবে না—বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের দ্বার উন্মোচন করবে।


