ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার কারনে এবার মার্কিন নৌবাহিনী মন্ত্রী জন ফেলান বরখাস্ত

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ মার্কিন নৌবাহিনী মন্ত্রী জন ফেলানকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার কারনেই এই পদচ্যুতি বলে সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলকে সরিয়ে দেয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত এলো।

গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেলান অবিলম্বে প্রশাসন থেকে বিদায় নিচ্ছেন, তবে কেন এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রয়টার্সই প্রথম ফেলানের এই বরখাস্ত হওয়ার খবরটি সামনে আনে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এক বার্তায় বলেছেন, ‘যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং উপ-মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমরা নৌবাহিনী ও দেশের প্রতি জন ফেলানের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করছি।’

তার জায়গায় এখন ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেসামরিক প্রশাসনের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও।

নেতৃত্বে রদবদল ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি পেন্টাগনে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি মাসের ২ তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই আর্মি চিফ অফ স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছিলেন।

দু’জন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, হেগসেথের সাথে সেনাবাহিনী মন্ত্রী ড্যানিয়েল ড্রিসকলের মধ্যকার টানাপড়েনের কারণেই র‌্যান্ডি জর্জকে বিদায় নিতে হয়েছিল।

পেন্টাগনের এই টালমাটাল অবস্থা আজকের নয়। গত বছর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান বিমান বাহিনী জেনারেল সি কিউ ব্রাউনকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকেই নেতৃত্বের সকল স্তরে এই অস্থিরতা শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমান বাহিনীর ভাইস চিফ অফ স্টাফকেও বিদায় নিতে হয়েছে।

Share this post

scroll to top