রুশ স্বপ্ন যাত্রা থামিয়ে শেষ চারে ক্রোয়েশিয়া

টাইব্রেকারে রাশিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। সেমিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।

কী নাটকীয়তা! কী রোমাঞ্চ! সবকিছুর ডালি সাজিয়ে যেন বসেছিল সোচি। টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় যার শেষ হয়েছে রুশ স্বপ্ন থামিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জয়ে। আসলে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে জয় তো ফুটবলের। যার সবটুকুর স্বাদ গ্রহণ করেছে ফুটবল পিপাসু দর্শকেরা।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই। ম্যাচে যতটুকু আশা করেছিলেন দর্শকেরা, তার সবই হয়তো পেয়েছেন। গোল, পাল্টা গোলে সমতা ও সব শেষে টাইব্রেকারে ম্যাচের নিষ্পত্তি। যেখানে পরাজিত দল রাশিয়াও গর্ব করে বলতে পারে—এমন বিদায়েও পাওয়ার আছে অনেক কিছু।

রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটি ফিরিয়ে নিয়ে গেল শেষ ষোলোর সেই দু দলের ম্যাচেই। যেখানে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল রাশিয়া। আর ক্রোয়েশিয়া হারিয়েছিল ডেনমার্ককে। শেষ ষোলোতে টাইব্রেকার ভাগ্য জিতে আসা দল দুটির মধ্যে আজ একটি দলের বিদায় নিশ্চিত ছিল। নিয়তির বিদায় ভর করল স্বাগতিকদের ওপর। রোমাঞ্চের যাত্রার শেষ আছেই। এ ভেলায় পুরোটি পথ পাড়ি দেওয়া যে বড়ই কঠিন। রাশিয়াও হয়তো পেরে উঠল না তাই।

টাইব্রেকারে প্রথম শটটিই মিস করেন রাশিয়ান ফিওদর স্মোলভ। তিন নম্বর শট নিতে এসে মিস করেন রাশিয়াকে সমতায় ফেরানো ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত মারিও ফার্নান্দেসও। আর স্পট কিক থেকে বল জালে জড়ান আলান জাগোয়েভ, সোর্গেই ইগনাশোভচ ও দালের ব্রাজিয়াভ। ক্রোয়েশিয়া দলের কোভাচিচ ছাড়া মার্সেলো ব্রোজাভিচ, লুকা মদরিচ, দোমাগয় ভিদা ও ইভান রাকিতিচ সবাই জালে জড়িয়েছেন।

এর আগে খেলা নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা। অতিরিক্ত সময়েও সমতা। তবে ২-২ গোলে। মূলত অতিরিক্ত সময়েই হয়েছে নাটক। ১০০তম মিনিটে দোমাগয় ভিদার গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়াটদের জয়ের দিকেই ম্যাচটি এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে রাশিয়াকে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচে নাটকীয় মোড় উপহার দেন তাঁদের ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ডিফেন্ডার ফার্নান্দেস। কিন্তু ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত নেওয়া গেলেও শেষ রক্ষে হলো না।

অথচ ৩১ মিনিটে রাশিয়াকে কামান দেগে গোল করে এগিয়ে নেন বিশ্বকাপ ফুটবলের পোস্টার বয় হয়ে ওঠা ডেনিস চেরশিভ। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে ক্রোয়েশিয়ার গোলপোস্টের জাল কাঁপিয়ে দেন চেরশিভ। রুশ এই উইঙ্গারের পা থেকে নয়, শটটি যেন রুশ কোনো ফাইটারের গোলা। বিশ্বকাপে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। আট মিনিট পরেই আন্দ্রেই ক্রামারিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়াটরা। বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে মারিও মানজুকিচের ক্রসে গোলমুখ থেকে ক্রামারিচ মাথা ছুঁয়ে দিলেই বল জালে (১-১)।

দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলের দেখা নেই বলে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল এবং পাল্টা গোলে সমতা। ১০০ মিনিটে দোমাগয় ভিদার গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যাওয়ার পরে ১১৫ মিনিটেই মারিও ফার্নান্দেসের গোলে সমতায় ফেরে রাশিয়া। আর নাটকের শেষটা হলো ক্রোয়েশিয়ার জয়ে। এতেই ১৯৯৮ সালের পর ফের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল ক্রোয়েশিয়া।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top