DMCA.com Protection Status
ADS

পৌর নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতেই হবেঃ খালেদা জিয়া

muktidolক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ  আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সরকারের নতুন ফন্দি মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামাতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী মাঠে নামাবে না। যে পুলিশ মাঠে থাকবে তাদের দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সেনা মোতায়েন করতে হবে।’ এ সময় দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সরকারের ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে সর্বত্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের কোন মানুষ আজ শান্তিতে নেই। শুধু আওয়ামী লীগের লোকজন সুখে, শান্তিতে বসবাস করছে। এছাড়া দেশে কেউ শান্তিতে নেই।

খালেদা জিয়া বলেন- সরিষা বাড়ির রাজাকার মাওলানা নূরুল ইসলামকে জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগই যুদ্ধাপরাধী এবং রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম দিয়ে নিজেদের ঘরে রাজাকার পুষছে। রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে। নিজেদের কথা তারা অতিসহজেই ভুলে যায়। কিন্তু জনগণ তা সহজে ভুলে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিএনপিও চায়। কিন্তু তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ও স্বচ্ছ। এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কে খন্দকার বইয়ে সত্য কথা লিখেছেন, তা প্রত্যাহার না করায় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’ কিন্তু তিনি বলেছেন, আমি সত্য কথা লিখেছি। বই প্রত্যাহার করে না নেওয়ায় তার নামে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সত্যি কথা শুধু তিনি নন, তাজউদ্দীন আহমেদের মেয়েও লিখেছেন।’

muktidol1বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র দেখার জন্য, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার এবং সুশাসন। কিন্তু আজ দেশে সুশাসন এবং ন্যায়বিচার অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে।
প্রতিদিনই গ্রেফতার, নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় দেশবাসীকে জেগে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি, তারা আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা। ক্ষমতায় গেলে এ সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে সরকার নতুন ফন্দি এটেছে। দলীয় প্রতীকে এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। এর পেছনে তাদের লক্ষ্য রয়েছে। তারা ( সরকার তথা আওয়ামী লীগ) দেখাবে ধানের শীষের পক্ষে আর জনগণ নেই।

খালেদা জিয়া বলেন, পৌরসভায় যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তো বিএনপি ৮০ শতাংশ ভোট পাবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও জানেন না তাদের নৌকা ডুবতে বসেছে। আজকে লজ্জা হয় যে বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচিতরা বরখাস্ত আর অনির্বাচিতরা দেশ চালাচ্ছেন। তবে দ্রুতই এসবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ জেগে উঠবে এবং দেশের এমন চেহারা পরিবর্তন হবেই।

নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রতিনিয়ত নির্বাচনী বিধি ভাঙছে আওয়ামী লীগের নেতারা, তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

muktidol2খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজের ঘরে যুদ্ধাপরাধী পালছে, মন্ত্রী বানাচ্ছে। তাদের আওয়ামী লীগ খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই।’

তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় সৈনিকদের জুতা ছিল না, কম্বল ছিল না। তাদের ঠিক মতো খাবার দেয়া হতো না। তাপরও এই সৈনিকরা দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছে। দেশ স্বাধীন করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর তৎকালীন সময়ে দেশ পুনর্গঠনের জন্য যেসব বৈদেশিক সহায়তা এসেছিল, তখনকার সরকার তা নিজেদের লোকের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, রক্ষী বাহিনী তৈরী করেছে। আপনারা অনেকেই দেখেছেন তাদের বাড়ি দেয়া হয়েছে। গাড়ি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

‘মুুক্তিযোদ্ধাদের বলতে হবে, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কী অবস্থা তারা (আওয়ামী লীগ) করেছে। সদ্যসমাপ্ত যুদ্ধের দেশে অনেক সাহায্য এসেছিল, যা দিয়ে দেশ গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। আপনারা তো সেই সাহায্য পাননি। সেই সাহায্য সরকারের নিজের আত্মীয়স্বজন ভোগ করত। বিদেশেও পাচার করত। এই পরিস্থিতি এক সময় এমন অবস্থা হলো যখন আর সামাল দিতে পারল না। দেশে কেন দুর্ভিক্ষ হলো? কত লোক মারা গেলো।’

দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাসদের উত্থান বর্ণনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জাসদ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে নানা ধরনের বাহিনী তৈরি করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণ্ডগোল করল। কত লোক হত্যা করল। দেশের এই দুরবস্থা দেখে সিরাজ শিকদার গর্জে উঠলেন, এর প্রতিবাদ করলেন। তখন এই সিরাজ শিকদারকে ধরার জন্য রক্ষী বাহিনী তৈরি করে তাকে হত্যা করা হলো। তারাই (আওয়ামী লীগ) ওই সময়ে ক্রসফায়ার প্রথম করেছে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের দল নয় মন্তব্য করে খালেদা বলেন, তারা শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, তাদের দলে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই। তাদের দেশের প্রতি কোনো মায়াও নেই। ১৯৭১ সালে তারা স্বাধীনতা চাননি, চেয়েছিলেন কেবল ক্ষমতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। আজকেও এই দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, ক্ষমতা চায় শুধু। এ জন্য জোর করে ক্ষমতা ধরে বসে আছে। এই আওয়ামী লীগ নিজ দলের মধ্যে যারা নিষ্ঠার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদেরও মূল্যায়ন করেনি। যথাযোগ্য সম্মান করেনি। করেছে গুটিকয়েক চাটুকারদের।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীকে আওয়ামী লীগ আজকে নয়, অনেক আগেই ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সেনাবাহিনীর ওপর কোনো বিশ্বাস নেই তাদের।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভালোভাবে বিশ্লেষণ না করলে বোঝা যাবে না তারা কত নোংড়া আর হিংস্র।’

তিনি উদাহরণ দেন, বিডিআর বিদ্রোহের। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে রক্ত বলেও মন্তব্য বিএনপি নেত্রীর। বলেন, আল্লাহ এর বিচার করবেন। তিনি তরুণদের ’৭১’র মতো জেগে ওঠার আহ্বান জানান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির বদলে বিভেদ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, যত অন্যায় করেছেন সব শেখ হাসিনা। প্রশাসন-পুলিশ-সেনাবাহিনী কারোই কোনো অন্যায় নেই। তাদের কিছু হবে না। কারো চাকরি যাবে না বিএনপি ক্ষমতায় গেলে। জেলে গেলে শেখ হাসিনাকেই যেতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবখানে যোগ্য-মেধাবী অফিসারদের মূল্যায়ন করা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দেশটাকে লুটপাট করে খাচ্ছে। নিজেরাই কামড়াকামড়ি করছে। সুইস ব্যাংকে কারা এত টাকা পাঠিয়েছে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

স্বপ্নের পদ্মাসেতু স্বপ্নই থেকে যাবে মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী আরও বলেন, তবে পদ্মাসেতু হবে, দৌলদিয়া-পাটুরিয়া দিয়েও সেতু হবে। সেতু বাস্তবায়নের মানুষ এ দেশে আরও আছে।

তিনি বলেন, এই রক্ষী বাহিনী সাধারণ মানুষ ধরে নিয়ে যেতো। গুম করে ফেলতো। আজ দেশে সেই রক্ষীবাহিনীর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিদিন সকালে কেউ ভাই হারা, কেউ সন্তানহারা এসে বলে আমার ভাই ৩ মাস, আমার ছেলে ৪ মাস ধরে নিখোঁজ। তাদের উপর কেন এই অত্যাচার। তারা কি এদেশের মানুষ না। তারা কি আমাদের ভাই না? খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এরা খুজে খুজে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। এদের উদ্দেশ্য বিএনপিকে নির্মূল করা। এসময় তিনি বলেন, বিদেশে আমার কোন ঠিকানা নেই। বাংলাদেশই আমার একমাত্র ঠিকানা।

ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিএনপি এবং আমার ওপর জুলুম অত্যাচার করা হয়েছে। তারেকের কী অবস্থা করেছে আপনারা দেখেছেন। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। লন্ডনে সপ্তাহে দুবার ডাক্তার দেখাতে হয়।’

খালেদা জিয়ার মা মারা যাওয়ার সাতদিন আগে তারেক রহমান এবং কোকোর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল কিন্তু দেখা করতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলেও পরবর্তীতে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়ার ব্যাখা দেন বিএনপি প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী নির্বাচনে গিয়েছি কারণ, এগুলো স্থানীয় নির্বাচন। স্থানীয় নির্বাচনে সবার মাঝে একটা আমেজ থাকে।’

সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান খালেদা জিয়া।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ।

বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এ সভায় উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। ডায়াসে আসন গ্রহণ করার পর মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। সমাবেশ পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!