DMCA.com Protection Status
ADS

জাতিকে অভিশাপমুক্ত করব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

1415030117আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই মাটিতে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে— এটা আমার ওয়াদা। বর্তমান সরকারের আমলেই সব রায় কার্যকর করে দেশকে অভিশাপমুক্ত করব ইনশা আল্লাহ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই; কেউই তা রূখতে পারবে না। বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার সরকার পতনের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেন ভালো কথা; কিন্তু খুনি, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গ ছাড়ুন। এদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। নির্বাচনে না আসার আপনার ভুলের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে?



সোমবার জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, পংকজ দেবনাথ এমপি, অধ্যাপিকা অপু উকিল প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।



দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড থেকে শোডাউন করে জনসভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টার আগেই রমনা কালীমন্দিরসংলগ্ন মঞ্চের আশপাশের জায়গা দলটির নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও আগেই তা শুরু হয়। সভার বিশাল প্যান্ডেল ছাড়াও সোহরাওয়ার্দীর বিশাল চত্বরে মানুষের ঢল দেখা যায়। মানুষের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়। শত শত মিছিলের তোড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।  বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মহাসমাবেশ স্থলে এসে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।



সমাবেশে বিএনপি নেত্রীর কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন— দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, হত্যা-খুন, জঙ্গিবাদ ও সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়াই হচ্ছে বিএনপির চরিত্র। আর বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকারী খুনি, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিরা খালেদা জিয়ার পছন্দের লোক। ক্ষমতায় নেই, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করতে পারছেন না খালেদা জিয়া; এখন সেই কষ্টে ভুগছেন। জামায়াত এখন গলার কাঁটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাপ যেমন ব্যাঙ খেয়ে গিলতে পারে না আবার ওগড়াতেও পারে না, তেমনি বিএনপি নেত্রীর গলায় আটকে আছে জামায়াত। এখন খালেদা জিয়া জামায়াতকে গলা থেকে বের করতেও পারছেন না, আবার গিলতেও পারছেন না। এদের নিয়ে তিনি সরকার পতনের হুঙ্কার দিচ্ছেন; কিন্তু আন্দোলন করতে হলে খালেদা জিয়াকে অবশ্যই খুনি, সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।



৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ২৯ আসনও পাবেন না— এটা বুঝতে পেরেই খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসেননি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের যে অভিশাপ দেন, পরবর্তীতে সেটাই আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে উনি (খালেদা জিয়া) বলেছিলেন— আমি প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। এমনকি সংসদে নাকি ৩০টি আসনও পাব না; কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে না এসে বিরোধী দলের নেত্রীর পদেও থাকতে পারলেন না। আর খালেদা জিয়া নিজেই ওই নির্বাচনে পেয়েছিলেন মাত্র ২৯টি আসন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে উনি ২৯টি আসনও পাবেন না— এটা বুঝতে পেরেই নির্বাচন করেননি। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে আপনি যে ভুল করেছেন, সেই ভুলের খেসারত কেন দেশের জনগণকে দিতে হবে? কেন আপনি দেশের জনগণকে কষ্ট দিচ্ছেন, শান্তি কেড়ে নিচ্ছেন? 



‘বর্তমান সরকার অবৈধ’— খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দলের জন্মই অবৈধ, সে দলের নেত্রী সবকিছুতেই অবৈধ দেখবেন; এটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই উনি কথায় কথায় অবৈধ বলেন, সবকিছুতেই অবৈধ দেখেন। আয়নার সামনে নিজের চেহারা দেখার জন্য খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন, নিজের অবৈধ চেহারাটাই বেরিয়ে আসবে। তার স্বামী জিয়াউর রহমান অস্ত্রহাতে হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে জন্ম দিয়েছিলেন বিএনপির।

 

খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ অবৈধ হলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সব স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে বর্তমান সংসদেরই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সিপিএ চেয়ারপারসন এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীকে আইপিইউর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করলেন কেন? নির্বাচন ও সরকার অবৈধ হলে তারা বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে দুটি পদেই নির্বাচিত করবেন কেন? খালেদা জিয়াকে এর জবাব দেশবাসীকে দিতে হবে। যখন সারাবিশ্ব বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও সংসদকে স্বীকৃতি দেয়, তখনও খালেদা জিয়া সবকিছুতে অবৈধ দেখেন— এটা তাদের মজ্জাগত অভ্যাস। 

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!