DMCA.com Protection Status
ADS

বরিশালে পুলিশের চাঁদাবাজি, এসিসহ বরখাস্ত ৬

APBN-pic পুলিশের চাঁদাবাজি, এসিসহ বরখাস্ত ৬

 চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশালে আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের (এপিবিএন) সহকারি কমিশনারসহ (এসি) ৬ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার সকালে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দৈনিক প্রথম বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

বরখস্তকৃতরা হলেন- আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের সহকারি কমিশনার (এসি) আবুল বাশার, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম, সহকারি উপ-পরিদর্শক জাফর, নায়েক আবুল কালাম ও কনেস্টেবল সুদরসন মিত্র। অপর একজনের পরিচয় জানা যায়নি।

তবে বরখস্তের বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গোপন করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশাল মেট্রাপলিটন পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর হোটেল ইম্পেরিয়ালে চাঁদাবাজির সময় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম এপিবিএন এর ৬ সদস্যকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের হাতকড়া পরিয়ে গভীর রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশানার সৈবাল কান্তির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক আব্দুর রহিমকে খবর দিয়ে এনে পুলিশ কমিশনার এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠক চলে সোমবার সকাল পর্যন্ত।

সূত্রটি আরও জানায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সোহেব আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. জিল্লুর রহমান ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার আজাদ রহমান প্রমুখ।

বরিশাল ডিবি পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের এই টিমটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এই টিমটি গত ২৮ আগস্ট ঝালকাঠি জেলা সদরের ইলিয়াস আলী নামে এক ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে নিজেদের বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এ সময় ওই ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে ৬৩ হাজার টাকা নিয়ে আসেন।

এক পর্যায়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তায় ওই টিমের সদস্যরা নলছিটি উপজেলায় বারেক মাঝি নামে এক ধনাঢ্য ব্যক্তির বাসায় গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এ সময় বারেক মাঝিকে বাসায় না পেয়ে তারা তল্লাশি চালিয়ে ৩ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এতে বাধা দেয়ায় বারেক মাঝির স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

এ বিষয়টি পরে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে অবহিত করেন বারেক মাঝি। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপির আলোচনা হয়। এসময় এমপি বিষয়টির রহস্য উদঘটন করতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

এদিকে এপিবিএন পুলিশ সদস্যদের প্রতারণার শিকার ঝালকাঠির ইলিয়াস আলী নামে ওই ব্যক্তি বিষয়টি বরিশাল ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পরে ইলিয়াস আলীর দেখানো পথ অনুকরণ করে বরিশাল ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের হোটেল থেকে আটক করে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য   দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ কে জানান, রোববার রাতে হোটেল ইম্পেরিয়ালের ৩০৮ ও ১১০ নম্বর রুমে ডিবির সহকারি কমিশনার (এসি) আজাদ রহমান, ইন্সপেক্টর (ওসি) আবুল কালাম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম কবির মাদক ব্যবসায়ী বেশে অবস্থান নেন। প্রতারণার শিকার ইলিয়াস আলী খবরটি এপিবিএন পুলিশকে জানান। এপিবিএন সদস্যরা হোটেলের রুমে প্রবেশ করে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে প্রকৃত ডিবি সদস্যদের হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করেন। এনিয়ে ওই হোটেলে প্রায় আধা ঘণ্টা তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের আরোও বেশ কিছু কর্মকর্তা গিয়ে তাদের আটক করেন।

অভিযুক্ত এপিবিএন সদস্যদের বরখস্তের বিষয়টি অস্বীকার করে বরিশাল পুলিশ কমিশনার সৈবাল কান্তি  বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।’

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারক টিমের প্রধান এপিবিএন সহকারি কমিশনার আবুল বাশার প্রতিটি জায়গায় নিজেকে বরিশাল ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম কবির হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। একই পরিচয় দিয়ে চলতি মাসে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দোয়ারিকা-শিকারপুরে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে আসে। বিষয়টি সম্পর্কে বরিশাল পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক আব্দুর রহিমের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!