DMCA.com Protection Status
ADS

বিরোধীদল বিহীন সংসদ কখনও দীর্ঘস্থায়ী হবে না : টিআইবি

pic_Press_conference_ACC_Act13সংসদীয় গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা বাংলাদেশ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি)। পার্লামেন্ট ওয়াচ অর্থে কোনো বিরোধীদল নেই। যে বিরোধীদল আছে তা কেবলই আক্ষরিক। বিরোধীদল বিহীন সংসদ কোনদিনই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংস্থাটির এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে অবিহিত করেছে সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, টিআইবি পার্লামেন্ট ওয়াচের প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক; অপ্রত্যাশিত। তারা একটা প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিলেন।

এ প্রেসক্রিপশনের ভ্যালিডিটি (বৈধতা) কী, তারা কোথা থেকে এটা আনলেন? আমাকে তো দুঃখের সাথে বলতে হয়, এ রিপোর্টটিতে বোধ হয় পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। সংসদী পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সংবিধান সংশোধনের আগে বাধ্যতামূলকভাবে গণভোটের আয়োজন, এমপিদের অনুপস্থিতি ৯০ দিনের বদলে ৩০ দিন, বিদেশী চুক্তির আগে তা সংসদে আলোচনা বাধ্যতামূলকসহ ২১ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি। নবম জাতীয় সংসদের ১৯টি অধিবেশনের ৪১৮ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান বিরোধী দলের ৩৪২ দিন (৮২ শতাংশ সময়) সংসদ বর্জন করার পটভূমিতে টিআইবি এ গবেষণা করে। সংস্থাটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দলীয় বা জোটগতভাবে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি প্রতিরোধের আহ্বান জানায়। পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রকাশ সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন সংস্থার গবেষণা-পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা-পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান।

প্রতিবেদনে জানানো হয় নবম সংসদে প্রধান বিরোধীদল অধিকাংশ সময় কার্যদিবস সংসদ বর্জন করায় সংসদ বর্জনের অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে জাতীয় সংসদ কার্যকর হচ্ছে না। সংসদকে কার্যকর করতে হলে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের কোন বিকল্প নেই। সংসদ সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সংসদকে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করার মাধ্যমেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ বর্জনের এই সংস্কৃতি সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চায় বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়; যা একদিকে বিব্রতকর, অন্যদিকে জনগণের ভোট ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতার পরিচায়ক। তিনি সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতির সর্বোচ্চ সময়সীমা ৩০ কার্যদিবস করার সুপারিশ করেন। প্রতিবেদনে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় করা, সংসদের কার্যকর করা ও সর্বোপরি সংসদকে জবাবদিহিতা করতে সদস্যদের উপস্থিতি, তাদের গণতান্ত্রিক আচরণ ও অংগ্রহণ, সংসদের কার্যদিবস ও কার্যসময়, তথ্য প্রকাশ, সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কমিটির কার্যকারীতা বৃদ্ধির জন্য ২১ দফা সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশসমূহ হল: সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি প্রতিহত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করে দলীয় বা জোটগতভাবে সংসদ বর্জন নিষিদ্ধকরণ, এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সদস্যপদ বাতিলের বিধান প্রণয়ন; সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকার সর্বোচ্চ সময়সীমা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে উদাহরণ স্বরূপ ৩০ কার্যদিবস করার বিধান করাসহ অনুমোদিত ছুটি ব্যতীত একটানা সাতদিনের বেশি অনুপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ করা; সংসদ সদস্য আচরণবিধি বিল ২০১০ চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইন হিসেবে প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার বিধান কার্যকর করা; অধিবেশনের কার্যদিবস বছরে কমপক্ষে ১৩০ দিন নির্ধারণ করা; সংসদ অধিবেশন ও স্থায়ী কমিটির সভায় সদস্যদের উপস্থিতিসহ সংসদ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে ও সময়মত ওয়েবসাইটে প্রকাশ; জনগুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বা জনমত যাচাই; সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয়ে গণভোটের আয়োজন; সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য/আপত্তি লিখিতভাবে সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয় কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা ৬০ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লিখিতভাবে জানানোর সুপারিশ করা হয়।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!