আহমেদ আজম (২৪ আগস্ট ২০২৫): ব্যাপক হট্টগোলের মধ্য দিয়ে সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি-আপত্তির ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানি শুরু হয়েছে। রোববার চার দিনের শুনানির প্রথম দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ধাক্কা দেওয়াকে কন্দ্র করে রুমিন ফারহানা এবং তাঁর প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও কিল-ঘুসির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও তাঁর সমর্থকদের দায়ী করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৫ বছরে যা হয়নি তা আজ হয়েছে। যে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য ১৫ বছর লড়াই করেছি, তারাই আমার গায়ে হাত তুলল।’ অন্যদিকে এনসিপি নেতারা রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদক’ আখ্যা দিয়ে দলের নেতাদের ওপর হামলার দায়ে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে রোববার সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়ার ওপর শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঞ্চালনায় শুনানিতে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিন যা ঘটল
ইসির খসড়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) এর সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো– বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর। দুপুর ১২টায় এ দুই আসন নিয়ে শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী রুমিন ফারহানা ইসির প্রস্তাব সমর্থন করে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষের আইনজীবীসহ বেশ কয়েকজন বিজয়নগর উপজেলা অখণ্ড রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসন আগের সীমানায় ফেরানোর দাবি জানান।
এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার মধ্যে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কিল-ঘুসি শুরু হয়। সেখানে শুনানিতে আসা এনসিপি নেতারাও হামলার মধ্যে পড়ে যান। এক পর্যায়ে রুমিন ডায়াসে দাঁড়িয়ে মাইক নিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে ইসি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর কুমিল্লা-১ ও ২ আসন নিয়ে শুনানি শুরু হয়। তবে সেখানেও পক্ষ-বিপক্ষে বক্তব্য ও ডায়াস দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনারদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরে এনসিপির পক্ষে জানানো হয়, রুমিন ফারহানার সমর্থকদের হামলায় এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মুস্তফা সুমন আহত হয়েছেন। আতাউল্লাহর অভিযোগ, রুমিনের সমর্থকরা তাঁকে ফুটবলের মতো লাথি দেওয়া ও পিষতে শুরু করে। তাঁর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেছে।
খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, এখানে আসলে এনসিপির সঙ্গে রুমিন ফারহানার তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিকেলে একই স্থানে ব্রিফিংয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ইসি দলকানা একটি পার্টি অফিস এবং একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা না পেলে ইসি পুনর্গঠনের দাবিও তুলবে এনসিপি।’ এ সময় রুমিনকে ‘আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী’ ও ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদক’ আখ্যা দেন তিনি। পরে ইসি সচিবের কাছে অভিযোগ করেন এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল আলম জানান, ছয় জেলার ১৮টি আসনের শুনানি শেষ হয়েছে। ৮১১টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মী। এদিকে রুমিনের সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে আতাউল্লাহর বিচার দাবি করেছেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটজুড়ে সর্বাত্মক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঢাকা-১৯ আসন থেকে দুটি ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ ভোটার।
