ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজু (২৪ আগস্ট ২০২৫): শেখ হাসিনা পালানোর পর যে রাজনৈতিক দল জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারবে না, তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে দেশের জনগণের মনোজগতে যে পরিবর্তন এসেছে, যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা জেগেছে সেটা যে রাজনৈতিক দল সেটা বুঝতে ও ধারণ করতে পারবে না, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী দিনে তাদের কোনো জায়গা থাকবে না।’
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেলের (যুক্তরাষ্ট্র) উদ্যোগে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা: জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু বলেন, অনেক সাংবাদিক দেশ থেকে চলে গেছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন, মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটার কারণে শুধু সাংবাদিকরাই না- কেউই স্বাধীনভাবে কোনো কাজ করতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া আগামী দিনের গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য যে গুরুত্ব, এটার সঙ্গে মিলিয়ে গুরুত্ব কোনো অংশে কম না। একটা ছাড়া আরেকটা চলবে না। মিডিয়া আর রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
আমীর খসরু বলেন, আপনি যখন দেশের ক্ষমতাকে দখল করে, জনগণকে বাইরে রেখে, জনগণের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, সে জায়গায় গণমাধ্যমের অধিকার থাকবে, এটি তো বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এটাই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টের নিয়ম।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ কাশেমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালির নোমানীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দীন হায়দার, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক জিএম রাজিব হোসেন প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আশিক ইসলাম।
প্রবন্ধে তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পথ চিরতরে রুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৬টি মামলা হয় এবং কমপক্ষে ৪ হাজার ৫২০ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া এ আইনে ওই ৫ বছরে কমপক্ষে ৪৫১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ২০৯ জন সাংবাদিক জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ও ১৯৭ জন স্থানীয় সাংবাদিক। অন্তত ৯৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫০ জন স্থানীয় সাংবাদিক ছিলেন।
