ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ আজকাল টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, অনেক উপস্থাপক-উপস্থাপিকাকে দেখছি টকশোতে নানাভাবে শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন। যারা পাঁচ আগস্টের পরে ছিলেন না, তারা ধীরে ধীরে জয়েন করছেন এবং শেখ হাসিনার গুণগান গাওয়ার চেষ্টা করছেন।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।
তিনি বলেন, ইতিহাসের যে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল, সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
রিজভী আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল ঘৃতাহুতির (আগুনে ঘি ঢালা) মতো। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের রাজনীতি হচ্ছে বারবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। কিন্তু আমি দেখেছি, কিছুদিন পর পর তারা নিজেরাই ঘোলা পানিতে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে। কিন্তু তাদের আদর্শ কী? গোটা দেশ স্বাধীনতার পক্ষে গেলেও তারা ছিল বিপক্ষে। সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে জনগণ- তা মেনে নেবে না।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন।
তিনি বলেন, ২৪-এর ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশ ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা পেরিয়ে প্রেস ক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ করে। পরে আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারি। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শিশু হত্যাকারী, কিশোর হত্যাকারী, তরুণ হত্যাকারীর মাফ হবে কী করে? তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করেন রিজভী। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রমুখ।




