DMCA.com Protection Status
ADS

বাংলাদেশের রাজনীতির অতিত,বর্তমান,ভবিষ্যৎ এবং বিএনপি

BNP-Flag-2 copy

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ  ৫ই জানুয়ারী ২০১৪ এর চরম বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি কি ভূল করেছিলো  ??

অংশ নিতে চাইলেও কি বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতো আওয়ামী সরকার??

আবার তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই বিএনপি সহ সকলকে নিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন যদি হতো এবং সেই নির্বাচনে প্রত্যাশিত ভাবে বিএনপি জয়লাভ করতো কিন্তু ঐ সরকার কি ছয়মাসের বেশী দিন টিকতে পারতো??

পারতো না।কারন বিবিধ কারনে বিএনপি তাদের বিগত শাসনামলের শেষ পর্যায় থেকে অদ্যাবধি ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী কিন্তু অমনোযোগী ছাত্রটির মতো বেখেয়ালী রয়েছে  বাড়ির কাজ ( Homework ) সম্পন্ন করার ব্যাপারে।

শোনা যায় ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত ,সংবিধান লংঘন কারী তত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই নিচুমানের কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী ছাত্রটির মতো সকল পাঠ শেষ করে যাচ্ছিলো আওয়ামী লীগ।

সরকারে ছিলো বিএনপি কিন্তু সেনাবাহিনী সহ প্রশাসনের অন্দরমহলে পুর্ন নিয়ন্ত্রন স্থাপন করতে সমর্থ হয় আওয়ামী লীগ।চটজলদি নির্বাচন হলে পাছে বিএনপি আবার না ক্ষমতায় এসে যায় তাই ভারতের সার্বিক তত্বাবধানে শুরু করে ব্যাপক বিএনপি বিরোধী প্রচারনা এবং প্রপাগান্ডা।

হাওয়া ভবন,১০ট্রাক অস্ত্র মামলা,বিদেশে অর্থ পাচার সহ স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রীদের দূর্নীতির উপাখ্যান ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপি ভবিষ্যত নেতৃত্ব তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কে নির্মম নির্যাতন এর ফল হিসাবে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় (রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ফল)বিদেশে যেতে বাধ্য করা হয়।

নিঃসঙ্গ বেগম জিয়া অসহায় হলেও দেশ ছেড়ে যেতে অস্বিকৃত জানানোয় তাদের পরিকল্পনায় কিছুটা ছেদ পড়লেও বানচাল হয়নি।

এসব কারনেই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে ২বছর সময় নেয় ষড়যন্ত্রকারী মঈনউদ্দিন,ফখরুদ্দিন গং।বিএনপি যদি ফাঁদপাতা সেই নির্বাচনে অংশ না নিতো তবে আজ পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে ভারত সমর্থীত মঈন-ফখরুদ্দীন গং।৭৫এর বাকশাল পরবর্তি ঘটনাবলী থেকে প্রভূত শিক্ষা গ্রহন করে আওয়ামী লীগ ভারতে গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর তত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিতে থাকে।

মাত্র মাস খানেক মধ্যেই সরকারের নাকের ডগার উপর ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের নৃশংসতম বিডিআর হত্যাকান্ড যাতে আমাদের ৫৭জন পদস্থ ও মেধাবী সেনা অফিসার সহ ৭৪জন নিহত হন।ঐ সময়ে সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদ সহ প্রধানমন্ত্রীর রহস্যজনক নির্লিপ্ততা আমাদের হতবাক করে দেয়।

অতঃপর  বিডিআর বিলুপ্ত করে বিজিবি গঠন করা হয় আওয়ামী সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্থ জেনারেল মইনুল ইসলামের তত্বাবধানে ,যেনো যেকোনো প্রয়োজনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা যায়।

ধীরে ধীরে পুলিশ বাহিনীর অফিসার পর্যায়ে পরিকল্পনা মাফিক নিয়োগ দেয়া হয় প্রায় ২৫ হাজার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের যাদের আনুগত্য প্রশ্নাতিত।র্যাব এর অবস্থাও তদ্রুপ।পুলিশ ও প্রশাসনের(ওসি এবং ডিসি) অনেক গুরুত্বপূর্ন পদে নিয়োগ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগন্জের লোকজনকে।সরকারের সচিব পর্যায়েও আওয়ামী ব্যকগ্রাউন্ডের গুরুত্ব দেয়া হতে থাকে।

একে একে বাংলাদেশের সম্পূর্ন প্রশাসন যন্ত্র আওয়ামী করন সম্পন্ন হয়।এবার আসি মিডিয়া প্রসংঙ্গে।দু একটি বাদে প্রায় সকল মিডিয়া আওয়ামী মালিকানাধীন হওয়ায় সরকারের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দেয়।ব্যতিক্রম সাগর-রুনীর মতো দুএকজনের সাহসী পদক্ষেপের মুল্য তাদের নিজ জীবন দিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে।গত বছরের শেষ ভাগে আরও ৬টি নতুন টিভিচ্যানেল এবং আরও ৩টি নতুন রেডিও স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয় আওয়ামী নেতা কর্মীদের।

আর্থিক খাতে আওয়ামী সমর্থকদের সীমাহীন লুটপাটের ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় শুন্য হয়ে পড়ে,তদুপরি এসব দরবেশ বাটপারদের দেয়া হয় আরও ১৩টির নতুন ব্যাংকের অনুমোদন।

বাকি রইলো বিচার বিভাগ।গত ৭বছরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বাংলাদেশের বিচার বিভাগে যে হারে দলীয় লোকজন দের নিয়োগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ তাতে এ বিভাগের নিরপেক্ষতা আর পবিত্রতা আজ চরম প্রশ্ন বিদ্ধ।

এমতাবস্থায় বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও কাদের দিয়ে ,কিভাবে দেশ শাসন করতো ,তা একটি বিশাল প্রশ্ন।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক সাজানো ১০ম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে এবং যেমন খুশী তেমন সাজো স্টাইলে একটি বিশাল মন্ত্রী সভাও গঠন করেছে।

তাদের পরিকল্পনা এভাবে কঠোর হাতে দেশ শাসন করে যাবে ভারতের সহযোগিতায়।যে কোনো মুল্যেই হোক তারা ক্ষমতা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক কারন সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগের বিচারের সম্ভাবনা,ক্ষমতায় থাকলে আরও অসীম দুর্নীতির অবারিত সুযোগ এবং ক্ষমতার মধুলোভ।

বিএনপির গত পাঁঁঁঁচ বছরের লাগাতার নির্লিপ্ততা,ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত,সরকারের অসংখ্য প্রমানিত গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ইস্যু সৃষ্টির ব্যর্থতা,সরকারের ক্রমাগত মৌলবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী অপবাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ -প্রতিবাদ সৃষ্টি করতে না পারা ইত্যাদি শহিদ জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় এই দলটির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কার্যকরী বিরোধীতায় সক্ষম এবং দেশের ৪২ ভাগ মানুষের স্থায়ী সমর্থন পুষ্ট এই দলটি বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র অবলম্বন বা সান্তনা বলে আমার বিশ্বাস।

কঠোর পরিশ্রম আর নিবিস্ট মনে নিজের কাজ সম্পন্ন করে গেলে বিএনপি অচিরেই তাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে সক্ষম হবে,ইন শা আল্লাহ।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!