DMCA.com Protection Status
ADS

চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে ওবায়দুল কাদের ও মহিউদ্দীন চৌধুরীর বাহাস !

KADER-e1405596817791ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ চট্টগ্রাম বিদ্বেষী শক্তির কারণে চট্টগ্রাম থেকে সোনাদিয়া গভীর বন্দর সরিয়ে নেয়ার যে অভিযোগ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী করেছিলেন সেটি সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের আমাদের দলের একজন নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, মহেশখালীতে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর সরিয়ে নিয়ে পটুয়াখালীর পায়রাতে গভীর সমুদ্র বন্দর করা হচ্ছে। আমি বলবো, তার বক্তব্য অসত্য। তিনি সঠিক কথা বলেননি। তিনি সত্যের প্রলাপ বকেছেন।’

রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে কর্ণফুলী সেতুর দক্ষিণ পাড়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এরআগে মেয়র নির্বাচনের সময় দলের সমর্থন নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আগাম বক্তব্যের সমালোচনামূখর ছিলেন ঘন ঘন চট্টগ্রাম সফরকারী দলের প্রভাবশালী এ নেতা।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘পটুয়াখালীর পায়রাতে গভীর সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে। একটি বাদ দিয়ে আরেকটি নয়। দুটিই সমুদ্র বন্দরই আমাদের সরকার নির্মাণ করবে। শেখ হাসিনা নেতৃত্ব থাকলে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের যানজট কমাতে ও এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত কর্ণফুলী সেতুর দুই পাশের ছয় লেনের দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার কানেকটিং সড়ক নির্মাণ করা হবে। নগরীর দিকে হবে পাঁচ কিলোমিটার এবং কর্ণফুলীর দিকে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। আগামী মাসেই এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।’

mohiএরআগে গত ৩১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম বিদ্বেষী একটি ‘শক্তির’ কারণে মহেশখালীর সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর পটুয়াখালীতে ‘সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ’ ও প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে চট্টগ্রামের পরিবর্তে সিলেটে ‘সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ’কে চট্টগ্রামের প্রতি ‘জঘন্য প্রতারণা’ করা হচ্ছে।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী আরো বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার প্রধানতম অর্থনৈতিক অবলম্বন। দেশের অর্থনীতির এই লাইফলাইনকে নিয়ে চলছে ষড়যন্ত্র। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের গুরুত্ব থাকলেও এটি সহ্য করতে পারছেনা এক শ্রেণীর চট্টগ্রাম বিদ্বেষী লোকজন। তারা চট্টগ্রাম বন্দরকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছে। নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করছে। যা গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আপনাদের অজানা নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের দুঃখ ভারাক্রান্ত চিত্তে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মহেশখালীর সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কথা ছিল। এই লক্ষে বিশাল অংকের টাকা খরচ করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জরিপ করা হলে বিশেষজ্ঞরা সেখানে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পক্ষে জোরালো মত দেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের স্থান পরিবর্তন করে সোনাদিয়ার পরিবর্তে পটুয়াখালীর পায়রাবন্দে নিয়ে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।’

আশংকা প্রকাশ করে সাবেক এ মেয়র বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে পায়রবন্দে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের মত প্রয়োজনীয় নাব্য নেই। চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে, নৌপথে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বার। তা সত্ত্বেও সেখানে কেন গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আসলে সেখানে সমুদ্র বন্দর হলে চোরাচালানের একটি ঘাঁটি গড়ে উঠবে এবং তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে।’

মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে চীন পর্যন্ত চলে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থিরকৃত হলেও গভীর সমুদ্র বন্দরের মত এটিও চট্টগ্রামের পরিবর্তে সিলেটের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রানজিট বন্দরে রূপান্তর করে ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও চীনের কুনমিন প্রদেশ পর্যন্ত সড়ক পথে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য চলাচলের উজ্জল সম্ভাবনা ছিল। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নত দেশে পরিণত হতে পারতো।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গভীর সমুদ্র বন্দর এবং এশিয়ান হাইওয়ের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে প্রতিশ্রুতির মূলা ধরিয়ে দিয়ে আসলে চট্টগ্রামের সাথে জঘন্য প্রতারণা করা হয়েছে। এতে জাতীয়ভাবে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী মহলের অনাঙিখত অনীহা, বঞ্চনা ও উপক্ষোর আচরণ সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!