DMCA.com Protection Status
ঈদ মোবারক

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাঃ এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

1416408575সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই এ সরকারের বড় শক্তি। আর বাংলাদেশের জনগণের সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের এ সরকারের ওপর রয়েছে। তাই বিএনপি আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেয়নি জনগন।একইসঙ্গে সরকারে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য ও জনগণের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।




বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিকাল চারটায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।


শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই এ সরকারের বড় শক্তি। আল্লাহর রহমতে এটুকু বলতে পারি— এখন বাংলাদেশের জনগণের সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের এ সরকারের ওপর রয়েছে। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থার এটাই বড় প্রমাণ কিছু দল অনবরত সরকার উত্খাত ও আন্দোলনের সময় দিয়েও জনগণের সাড়া পাচ্ছে না। এর অর্থ এ দাঁড়াচ্ছে— জনগণের সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের ওপর রয়েছে।




শেখ হাসিনা জানান, জনগণ বিশ্বাস করে যে দল দেশের জন্য ত্যাগ করে এবং জেল-জুলুম ও কষ্ট করেছে, সে দল সরকারে থাকা মানেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে নিয়ে এগোনোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো জাতি, রাষ্ট্রের, দেশের জন্য দিকনির্দেশনা থাকতে হয়। দিক হারা নাবিক লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। আমরা দেশের জন্য সেই দিকদর্শন দিয়েই এগোচ্ছি। এটা বাস্তবায়নের জন্য সব থেকে বেশি দরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা। সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমপি ও জনগণের সহযোগিতা চান তিনি।




বর্তমান সরকারের অগ্রযাত্রার বিষয়ে বিশ্ব সমপ্রদায় পুরোপুরি আস্থা রাখে: স্বতন্ত্র এমপি রুস্তুম আলী ফরাজীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিপিএ এবং আইপিইউ— আন্তর্জাতিক এ দুটি সংস্থায় বাংলাদেশের জয়লাভ একদিকে যেমন আমাদের বিরল অর্জন, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের ক্রমবর্ধমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রমাণ। এর মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অব্যাহত অগ্রযাত্রার বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় পুরোপুরি আস্থা রাখে।

তিনি জানান, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী এ দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে তা প্রমাণ হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রী বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো কোনো মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও দেশের জনপ্রতিনিধিদের এ ফোরামে নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে, সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের  সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ভিত্তি ক্রমশ আরো জোরদার হচ্ছে। সিপিএ ও আইপিইউর নেতৃত্বের ভার এখন বাংলাদেশের। এ যেমন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্ব নেতাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ,  তেমিন বাংলাদেশের সংসদের প্রতিও তাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে একই সময়ে উভয় পদের সর্বোচ্চ দুই পদে নির্বাচিত হয়ে এ বিরল গৌরব ও সম্মান অর্জন করতে পারেনি।




রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক ফোরামে নির্বাচিত হয়ে আসার পিছনে প্রার্থী নির্বাচনই বড় বিষয়। এবার সব দেশের সমর্থনও পাওয়া গেছে; কিন্তু (বিএনপি শাসনামলে ওআইসিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রার্থিতা) যুদ্ধাপরাধীকে প্রার্থী করলে কোনো দেশই সমর্থন দেয়নি। প্রথম পর্যায়ে সে পেয়েছিল মাত্র এক ভোট এবং পরের পর্যায়ে সে নিজের ভোট ছাড়া অন্য কোনো ভোটও পায়নি।




২০১৬ সালের মধ্যে ৩৯৯০৭টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হবে: মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এক প্র্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে ৩৯ হাজার ৯০৭টি সরকারি প্র্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্র্রতিষ্ঠার প্ররিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, প্রতি উপজেলা বা থানার অনধিক তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট এক হাজার ৪৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, সাউন্ড সিস্টেম ও ইন্টারনেট মডেম সরবরাহ করা হয়েছে।

 

চলতি অর্থবছরে আরও তিন হাজার ৯৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের জন্য একইরূপ উপকরণ বিতরণের জন্য অপেক্ষমাণ এবং তিন হাজার ৫০৪টির জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


শেখ হাসিনা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ‘আইসিটি  শিক্ষার প্রচলন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় মাধ্যমিক প্রর্যায়ের মোট ২০ হাজার ৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রোগ্রাম ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রর্যন্ত দেশের প্র্রাথমিক স্তরের ৩৩টি, মাধ্যমিক স্তরের ৪৯টি, মাদ্রাসা শিক্ষার ৭৫টি এবং কারিগরি শিক্ষার ৩২টি পাঠ্যপুস্তক আকর্ষণীয় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ই-বুকে কনভার্ট করে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা গবেষক ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো সময় পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে পারছে।




দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম: কুমিল্লা-১ আসনের সুবিদ আলী ভূঁইয়া জানতে চান— ঢাকা-দাউদকান্দি-কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন রেল লাইন নির্মাণে সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না। তারকাচিহ্নিত এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। চায়না নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা যাবে।




মোবাইলের সর্বনিম্ন কলরেট: একেএম শাহজাহান কামালের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা  জানান, বর্তমানে মোবাইল  ফোনের কলরেট প্রতি মিনিট সর্বনিমম্ন ২৫ পয়সা থেকে ২টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। দেশে সব মোবাইল অপারেটরের গড় কলরেট প্রতি মিনিট ৮৩ পয়সা। এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন কলরেট হিসেবে বিবেচিত। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কলরেট পুনর্নির্ধারণে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।




দারিদ্র্যের হার কমছে: মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য ব্যাপক হারে কমেছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। হতদরিদ্রের সংখ্যা ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে  দেশে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।




শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কমিশন: দিদারুল আলমের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষক নিয়োগে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পিএসসির আদলে একটি পৃথক কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে। কমিশন গঠনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কমিটি যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কমিশন গঠন করবে। তিনি জানান, বর্তমানে সহকারি শিক্ষকের প্রায় এক হাজার ৪৯১টি এবং প্রভাষকের দুই হাজার ৮৩৪টি পদ শূন্য রয়েছে।




জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে ২০০ কোটি টাকা: কক্সবাজার-১ আসনের মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।




সামরিক বাহিনীতে ১ হাজার ৪২৫ জন নারী: আবদুল মুনিম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে ১ হাজার ৪২৫ জন নারী চাকরিরত আছেন। এরমধ্যে সেনাবাহিনীতে ৯১২ জন, নৌবাহিনীতে ২৭০ জন এবং বিমানবাহিনীতে ২৪৩ জন।


 

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!