DMCA.com Protection Status
ADS

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: ‘বেদনায় আমার কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল’:শেখ হাসিনা

 image_91578_0আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার দিনগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।



শেখ হাসিনা অশ্রুসিক্ত নয়নে ও কান্না জড়ানো কন্ঠে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘যখন দেশে পৌঁছাই, তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। লাখো মানুষের ঢল ও পরিবার হারানোর বেদনায় আমার কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল, কোন কথা বলতে পারছিলাম না।’



শনিবার গণভবনে ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের সারি সারি কবর দেখে নিজের মানসিক অবস্থা যে কেমন হয়েছিল, তা আজও আমি প্রকাশ করতে পারব না। কি কঠিন সময় যে তখন আমাকে কাটাতে করতে হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।’



শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সে সময় ৩২ নম্বরে গিয়ে আমাকে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য মিলাদ পড়তে দেয়নি। তখন রাস্তায় ও লেকের পাড়ে বসে আমাকে পরিবারের সদস্যদের জন্য মিলাদ ও দোয়া পড়তে হয়েছে।’



তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ‘সবাইকে রেখে দেশ ছেড়েছিলাম কিন্তু ফিরে এসে দেখি কেউ নেই। ৩২ নম্বরের সামনে লেকের পাড়ে বসে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিতাম।



১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার সব শেষ হয়ে যায় উল্লেখ করে স্মৃতি হাতড়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিবারকে হারানোর মাত্র ১৫ দিন আগে স্বামীর সঙ্গে জার্মানি চলে যাই। সেখানে বসে নানা কথা শুনতে থাকি। কেউ বলছে ‘মা’ বেঁচে আছেন, আবার কেউ বলছে ছোট ভাই রাসেলের কথা। সে সময় দেশের বাইরে থাকা আমাদের দুই বোনকে আশ্রয় দেয়ার আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি মার্শাল টিটো।’



তিনি বলেন, ‘সে সময় ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে দেশের অবস্থা ও পরিবারের সব সদস্যকে হারানো কথা জানতে পারি। ১৯৭৭ বা ৭৮ সালে লন্ডনে আমার পক্ষে ছোট বোন শেখ রেহানা বাবাসহ পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যার বিচার চেয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ১৯৮০ সালে লন্ডনে গিয়ে সে দেশের সিনেট সদস্যদের নিয়ে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করি। এছাড়া সে বছরেরই ১৬ আগস্ট ইয়র্ক হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে জনসম্মুখে আমি প্রথম বক্তৃতা দেই।’



শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান থাকায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজাকাররা দেশে ও দেশের বাইরে বেশ দাপটে ছিল। তারা দেশের বাইরেও আমাদের সভা-সমাবেশ করতে দিত না। সব সময়ই হত্যার হুমকি দিত। সে অবস্থাতেই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনকে সংগঠিত করতে যুক্তরাজ্যের নানা স্থানে সভা-সমাবেশ করতে থাকি।’



তিনি আরো বলেন, ‘সে সময়ে আমি যেন দেশে আসতে না পারি, সে জন্য জিয়া প্রশাসন নানাভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তারপরও ১৯৮১ সালের ১৭ মে অসুস্থ মেয়ে পুতুলকে নিয়ে দেশে আসি।’



আমি কখনই আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চাইনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে চিঠির মাধ্যমে সব সময় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিতাম। কিন্তু দেখা গেল ১৯৮১ সালে দলের সম্মেলন করে আমাকে সভাপতি করা হলো। এতে আমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।’



ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে হাসিনা বলেন, ‘সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, কিন্তু কখনো আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দলের দায়িত্ব নিতে হবে তা ভাবিনি। আমি সবসময় একটা বিষয়েই জোর দিয়েছি, আমার জন্য দেশের ও দলের যেনো কোনও ক্ষতি না হয়। আমার কারণে যেনো দলের নেতা-কর্মীদের হেয় হতে না হয়।’



জেনারেল জিয়া আওয়ামী লীগকে প্রধান শত্রু ভাবতেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জন্য তিনি এ দলের নাম নিশানা মুছে দিতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন ও দলের নাম নিশানা মুছে ফেলতে নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম করা শুরু করেন। আর এসব কাজে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধী চক্র রাজাকারদের ব্যবহার করেছেন’।



অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।



এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!