DMCA.com Protection Status
ADS

শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় আদালতের নাটকীয় সিদ্ধান্ত,মাত্র ৩০মিনিটেই গ্রেফতারের আদেশ বাতিল,ক্ষমতার কাছে অসহায় আদালত ও বিচার ব্যবস্থা।

image_81149_0১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমানের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সকালে বিচার শুরু করে বিকেলে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ পেয়ে তা আবার স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী সিকউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক এমএ রশিদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে এ বিচার শুরু হয়। আদালত মৌখিকভাবে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়ে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করলে মুহূর্তেই এ খবর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হতে থাকে। কিন্তু তিন বছর আগের হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বিকেলে দাখিল করায় মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতেও স্থগিত করা হয়।

১৯৯৭ সালের ২ এপ্রিল মামলাটি দায়েরের প্রায় ১৭ বছর পর এর বিচার শুরু হয়। এ মামলায় আসামি করা হয়, বেক্সিমকো ফার্মাসউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান  সোহেল এফ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএইচ খানকে।

এদিকে সোমবার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল এ মামলাটিতে আসামিপক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আছে মর্মে আদালতকে জানালেও বিচারক দীর্ঘ ৪ বছরেও স্থগিতাদেশ না দাখিল করায় বাদী এমএ রশিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ওই আইনজীবী হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দাখিলের জন্য অন্ততঃ দুই দিনের সময় প্রার্থনা করেন। যদিও গত প্রায় চার বছর হাইকোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ দাখিল করতে পারেননি আসামি সালমান এফ রহমানের পক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার নথিতে বিচারকের আদেশ থেকে দেখা যায়, গত ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট আসামি পক্ষে মামলাটি স্থগিত করেছেন। কিন্তু কেন এতদিনেও ওই আদেশ বিচারিক আদালতে দাখিল করা হয়নি সে ব্যাপারে আসামিপক্ষের আইনজীবীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অবশেষে বিচারক দুই দিনের মধ্যে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দাখিলের আদেশ দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করে আগামী ২৪ এপ্রিল পরবর্তী বিচার কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিকে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বিচারিক আদালতে দাখিল করতে যাচ্ছেন।

এরপর সাড়ে ৪টার দিকে ওই আইনজীবী নিজে বিচারিক আদালতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ দাখিল করলে বিচারক মামলার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।

বিচারকের এই আদেশের মধ্য দিয়ে নানা নাটকীয়তায় ভরা মিডিয়ায় তোলপাড় তোলা সালমান এফ রহমানসহ তিন আসামি ও বেক্সিমকোর বিরুদ্ধে সকালে শুরু হওয়া বিচার বিকালেই স্থগিত হয়ে গেল।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!