DMCA.com Protection Status
ADS

বন্দুক ফেলে আলোচনায় আসুনঃ বেগম খালেদা জিয়া

image_81216_0দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ এক্সক্লুসিভঃ   সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সময় থাকতে বন্দুক ফেলে আলোচনায় আসুন। বন্দুকের মাধ্যমে সমাধান হবে না। যদি মনে করেন বন্দুক দিয়ে ক্ষমতায় থাকবেন, তাহলে  ভুল করবেন। তখন আপনাদের পরিণতি হবে আরো ভয়াবহ।’
সোমবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির ৬৮ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

জোর করে ও অসাংবিধানিক পন্থায় সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আকড়ে আছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কোনো ভোটার ভোট দিতে যায়নি। টিভিতে দেখা গেছে ভোট কেন্দ্রে কুকুর বসে আছে। ১৫৩ আসনে কোনো ভোটই হয়নি। বাকী ১৪৭টি আসনে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে ৫৭টি কেন্দ্রে ভোটই পড়েনি।’
তিনি বলেন, ‘র‌্যাব-পুলিশকে তারা দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। সরকার এখন বন্দুকের জোরে ক্ষমতায়। সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন এখন সবার দাবি।’

বর্তমান সরকারকে অবৈধ আখ্যায়িত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা জোর করে, অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় আকড়ে আছে। শুধু আমরা না, দেশ-বিদেশের সবাই বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচনের দাবি করেছে। তাই  সরকারের উচিৎ দ্রুত নতুন নির্বাচন দেয়া।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় নির্বাচন চলছে। এই নির্বাচনে ভোটের উৎসব চলছে। নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায় কেন্দ্রে। এ রকম লাইন কী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেখেছেন? তাহলে ওটা কীসের নির্বাচন ছিল।এই জন্যই আমরা বলি এই সরকার অবৈধ, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক। তারা যতই সংবিধানের দোহাই দিক। কীভাবে সাংবিধানিক সরকার হবে তারা?  তারা তো নির্বাচিতই হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে।’


উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে জয় পেয়ে আওয়ামী লীগ আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। যে কয়টাতে আপনারা জয় পেয়েছেন তা জোর করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীরাই বেশি উপজেলায় জয়লাভ করতো।
বেগম জিয়া বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে তারা (আওয়ামীলীগ) কেন্দ্র করেছে, পত্রিকায় দেখেছেন তারা কীভাবে জাল ভোট দিয়েছে। আমাদের প্রার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমাদের এজেন্ট ছিলো না। তবুও জনগণ আমাদের জয়ী  করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এবার অনেক নতুন ভোটার ছিল। একতরফা নির্বাচনের কারণে তারা ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোটের সুযোগ  থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাহলে এই সরকারকে কীভাবে গণতান্ত্রিক সরকার বলা যাবে? উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বলেন, ‘না’।

তিনি এই সময় ক্রসফায়ারের নামে খুন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, ‘খুন-গুমের জন্য একদিন সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।’
সরকার কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়নের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে তত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করে  বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকারের মুখে শুধু বড় বড় কথা। মিথ্যা কথা। আমরা (বিএনপি) কৃষকদের জন্য যা করেছি। এরা (আওয়ামী লীগ) সে অনুপাতে কিছুই করেনি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমাদের সময় চাল, ডাল, সারসহ যাবতীয় কৃষি সরঞ্জামের দাম কম ছিল। আমরা কৃষির ওপর অনেক বেশি জোর দিয়েছিলাম। জিয়াউর রহমানও এই খাতে বেশি জোর দিয়েছিলেন। কারণ, আমাদের লক্ষ্যই ছিল খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করা। আমরা অনেকটা এগিয়েও গিয়ছিলাম।’

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!