ক্ষমতায় রাখার প্রস্তাবে কী শর্ত দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’, জানালেন আসিফ

ক্যাপ্টেন(অবঃ) মারুফ রাজুঃ  ‘ডিপ স্টেট’ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। ‘ডিপ স্টেট’ বলতে কাদের বুঝিয়েছেন আসিফ, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভায় আসিফ এমন বক্তব্য দেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে আসিফের কাছে ওই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ডিপ স্টেটে বৈদেশিকসহ অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন-চার-পাঁচ মাসে বিভিন্ন আলোচনায় ডিপ স্টেটের দিক থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে তাদের কিছু স্বার্থ রক্ষা করলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে দীর্ঘদিন রাখতে আগ্রহী। দেন-দরবারের অংশ হিসেবে আমাদের অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিল, হয়তো অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছিল।’

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসনের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার মতো বিষয়ও সেই প্রস্তাবে ছিল বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ডিপ স্টেটের সেই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি। সরকার নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। ফলে সরকার তাদের (ডিপ স্টেট) সঙ্গে সমঝোতায় যায়নি।’

তবে এই ডিপ স্টেট কারা, সেটা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে বলতে রাজি হননি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে পাঁচ সপ্তাহ আগে। আসিফ মাহমুদ ছাড়া ওই সরকারের আর কোনো উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত ডিপ স্টেট বা ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব ছিল—এমন কিছু বলেননি।

তবে এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ১০ মার্চ রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল ডিপ স্টেট।’ তিনিও ডিপ স্টেট কারা, সেটা স্পষ্ট করে বলেননি।

Share this post

scroll to top