DMCA.com Protection Status
ADS

এবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলো আইসিএন ( ICAN )

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ  অবশেষে  এবছর  ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলো পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থা আইসিএএন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আজ থেকে ১০ বছর আগে সংস্থাটির জন্ম। সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদরদপ্তর অবস্থিত।

প্রতি বছরের মতো এবারেরও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোন কমতি ছিলোনা।কয়েকটি খ্যাতনামা পত্রিকার সম্ভাব্য তালিকার প্রথম ১০ জনের মাঝে আইসিএএন ও ছিলো।

 

পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর কারণে গোটা বিশ্বে যে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, সেই উপলব্ধি থেকেই সংস্থাটির জন্ম। বিশ্বের সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে তৈরি জোটভিত্তিক সংস্থাটি পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে এর ভয়াবহতার দিকগুলো সামনে আনে। সেই সঙ্গে একটি কার্যকর পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি তৈরি ও তা বহাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


আইসিএএন (International Campaign to Abolish Nuclear Weapons) ২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। মোট ১০১টি দেশের ৪৬৮টি সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি আইসিএএন বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


পরমাণু অস্ত্র তৈরি বিশ্বের জন্য কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং দুর্ঘটনাবশত এর ব্যবহার পরিবেশ ও মানব সমাজের জন্য কতোটা বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে তা বোঝাতে কাজ করছে। বলা হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্যই এবছর নোবেল কমিটি আইসিএএন’কে শান্তিতে পুরস্কার দেয়ার জন্য নির্বাচিত করে।

 

ইউকিপিডিয়ার তথ্যে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পেছনে বিশ্ব মানবতার দিকটি তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছে সংস্থাটি। ফলে পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে অলাভজনক বেসরকারি সংস্থাটি সফলতা পেয়েছে।


পরমাণু অস্ত্র মানব সভ্যতা এবং পরিবেশের জন্য কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্য সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালায়। এছাড়া মানব স্বাস্থ্যের জন্য পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্যে তথ্যবহুল প্রচারণাও চালানো হয়। এছাড়া, পরমাণুর ক্ষতিকর বিক্রিয়া পরিবেশে কতোটা দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ ফল ডেকে আনবে সে ব্যাপারেও স্বোচ্চার হয় সংস্থাটি। তাদের এই উদ্যোগ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর নজর কাড়ে।


ল্যান্ড মাইন বিরোধী সংগঠন International Campaign to Ban Landmines’ এর সফলতা দেখে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতারা অনুপ্রাণিত হন। সেভাবেই এই সংগঠনটিকে সৃষ্টি করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে কাজ শুরু করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের ফলে এটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে জাতিসংঘে পরমাণু বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


 

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!