DMCA.com Protection Status
ADS

বিএনপির আন্দোলন-অবরোধে নাশকতার তদন্ত জাতিসংঘের তত্বাবধানে হোকঃ বিএনপি

ripon2ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ ২০১৫ সালের শুরুতে টানা তিন মাসের আন্দোলন-অবরোধে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সস্মেলনে দলের পক্ষে বিএনপি মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ দাবি তুলে ধরেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশে পেট্রোলবোমা হামলা হয়েছে- ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্যের জবাবে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘পেট্রোলবোমা কারা মেরেছে তা উদ্ঘাটনে আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া দরকার। সরকার বলছে বিএনপি পেট্রোলবোমা মেরেছে। বিএনপি বলছে, পেট্রোলবোমা মারার সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। এই অবস্থায় আমাদের দাবি হচ্ছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করা।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কখনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল না,বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক তদন্ত হলে তদন্তকারীদের কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত আশা করা যাবে না। সে জন্য জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে তদন্ত চায় বিএনপি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নাশকতার জন্য বিএনপি নেত্রী হুকুম দিয়েছেন বলে তাকে দায়ী করছে এবং এর সঙ্গে বিএনপির নেতাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বা তার কোনো নেতা পেট্রোলবোমা বা এ ধরনের কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নন।এই অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমান এই সরকার এখনও দেখাতে পারেনি। বিএনপি  নাশকতায় নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’

বিএনপির এই আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তদন্ত হলে নাশকতায় সত্যিকারার্থে কারা জড়িত তা বেরিয়ে আসবে। তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের কথার যথার্থতা প্রমাণিত হবে, এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক তদন্ত না করে যদি বিরোধী দল বা শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হয়, গণতন্ত্রের জন্য তা ভাল হবে না এবং পরিনাম হবে সুদূর প্রশারী।

বিএনপি চেয়ারপরাসন খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একই বৃন্তে দুটি ফুল আখ্যা দিয়ে রিপন বলেন, ‘তাদের দুজনের একজন ঝরে গেলে আরেকজনও ঝরে যাবেন। একজনের বিনাশ ঘটলে অন্যজনেরও বিনাশ ঘটবে। বিএনপির বিনাশ হলে আওয়ামী লীগেরও বিনাশ হবে আর আওয়ামী লীগের বিনাশ ঘটলে বিএনপিরও বিনাশ ঘটবে।’

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটলে দেশে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটবে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে রিপন বলেন, ‘এই উপলব্ধির জন্য তাকে স্বাগত জানাই। তবে এটা বলতে পারি, শুভ বা অশুভ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে অনিবার্যভাবে বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটবে। তখন কারও কিছু করার থাকবে না।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যদি রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তবে বিকল্প শক্তি এসে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালে তখন আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ থাকবে না।’ এজন্য ১/১১ থেকে শিক্ষা নিতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরানোর কারণ হিসেবে নতুন প্রকল্প নিয়ে সরকারের সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করেছে বিএনপি।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘একনেক’র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি সংসদ সদস্যকে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। যেখানে আশরাফের আপত্তি ছিল। এ কারণে তিনি গত একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন না। নৈতিকভাবে তিনি এটা ঠিক করেছেন।’

সৈয়দ আশরাফকে সরানোর প্রসঙ্গে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এটা নিজস্ব বিষয়। তবে আমার জানা মতে মন্ত্রী হওয়ার জন্য তার কোন আগ্রহ ছিল না।’ তবে তার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি প্রসঙ্গে সরকার ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত বলেন মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত কোন নির্বাচন বয়কট করেনি- আশরাফুল ইসলামের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রিপন বলেন, আমার মনে হচ্ছে রাজনীতির ইতিহাস সম্পর্কে আশরাফুলের কম ধারণা রয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ ১৯৮৮ সালে নির্বাচনে যায়নি এবং ১৯৯৬ সালের  ফেব্রুয়ারীতে বিএনপির অধীনে যে নির্বাচন হয়েছিল সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও নির্বাচনে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!