DMCA.com Protection Status
ADS

সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাঃ বিএনপির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন

1413882467বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ’ দেয়ায় এ মামলা করেন।

 

মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান বাদীর বক্তব্য শুনে যথাযথ সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর অভিযোগ তদন্ত করে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

আদালতে এবি সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী রওশন আরা শিকদার ডেইজি। এদিকে বিচারকের আদেশের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল বের করেন এবং এ বি সিদ্দিকীর ওপর চড়াও হন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। 



এ বি সিদ্দিকী তার মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেন, হিন্দু সমপ্রদায়ের শুভ বিজয়া উপলক্ষে গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ‘কটূক্তি’ করেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আর বিএনপি জনগণের দল, সব দেশ ও ধর্মের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখে।’ 

মামলার এজহারে বলা হয়, ওই বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়া ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ধারায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার জন্য দুই বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৯৫ (ক) ধারায় অন্যের ধর্ম বিশ্বাসের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে বিদ্বেষমূলক কোনো কাজ করলে দুই বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। 



এবি সিদ্দিকী তার মামলায় চারজনকে সাক্ষী করেছেন। শুনানি শেষে বিচারক আদেশ দেয়ার পর এর প্রতিবাদে আদালত এলাকায় মিছিল বের করেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। এ সময় তারা স্লোগান দেন— ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে/ জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। আদালতের সামনের রাস্তা ঘুরে তারা মিছিল নিয়ে ফেরার পর সাংবাদিকদের সামনেই এ বি সিদ্দিকীর ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকে মারধরেরও চেষ্টা হয়। এরপর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী দৌড়ে ওই এলাকা থেকে সরে যান বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনজীবীরা জানান। 

আদালত হাজতের ওসি মুরাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবীরা চড়াও হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

 

বিএনপির নিন্দাঃ

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয়বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ দায়েরকৃত মামলাকে হীন চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠনো এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা মামলা দায়ের এই অবৈধ সরকার কর্তৃক গণতন্ত্রকে হত্যা করবার ও একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার আরেকটি হীন চক্রান্ত। এ ধরণের বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা মামলা খালেদা জিয়াকে অহেতুক হয়রানি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি অপকৌশল মাত্র।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ধরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রীর গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম সেটিকে রোধ করা যাবে না। এই বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যত্থায় গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এইসব চক্রান্তের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।’

অপর এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কোনো কারণ ছাড়াই প্রায় ২২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার এবং সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতিসহ গ্রেপ্তারকৃত সিলেট জেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!