র‌্যাবের ‘নির্যাতনে’ শাহনূরের মৃত্যুঃ হাইকোর্টের রুল

2f8b5b3a1b6641ca14706661058f3c60-High_Courtদৈনিক প্রথম বাংলাদেশ প্রতিবেদনঃ   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শাহনূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে র‌্যাবের নয় সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জেলা দায়রা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। জেলা দায়রা জজ আদালত এর আগে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের (নবীনগর) দেওয়া আদেশ সংশোধন করেন।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়,আজ মঙ্গলবার বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের (রিভিশন আবেদন) শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

awami police2নিহত শাহনূরের ভাই মেহেদী হাসান গত রোববার রিভিশন আবেদনটি করেন। রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মিয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন দৈনিক  প্রথম বাংলাদেশকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দায়রা জজ আদালতের ওই আদেশটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী সূত্র জানায়, ২৯ এপ্রিল র‌্যাব পরিচয়ে শাহনূর আলমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্প-১৪-এ নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩০ এপ্রিল তাকে নবীনগর থানায় পাঠানো হয়। এবং মো. আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরে শাহনূরের চিকিত্সার জন্য ৪ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। ৬ মে শাহনূর মারা যান। ওই ঘটনায় তাঁর ভাই মেহেদী হাসান ১ জুন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (নবীনগর) অভিযোগ দায়ের করেন। ৪ জুন আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করার আদেশ দেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের এক এসআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়রা জজ আদালত আদেশ সংশোধন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। এ আদেশ বাতিল চেয়ে গত রোববার আবেদন করেন শাহনূরের ভাই মেহেদী হাসান। শুনানি নিয়ে আজ আদালত এ আদেশ দেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top