DMCA.com Protection Status
ADS

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ভোট রোববার

image_82993_0গত তিন দফা উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, সহিংসতা, জালভোট, কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্রে গুলির ঘটনায় ভোটার এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আর এ উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যেই ২৩ মার্চ রোববার চতুর্থ দফায় ৪৩টি জেলার ৯১টি উপজেলার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


 


এদিন সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।





গত তিন দফার নির্বাচনে প্রথম দুই দফায় বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু তৃতীয় দফায় এসে বিদ্রোহী ঠেকানোর কৌশলে অনেকটা সফল হয় আওয়ামী লীগ। ফলে এ দফায় অপেক্ষাকৃত ভালো ফল করেছে তারা। চতুর্থ দফায় আরো ভালো করতে চায়। ফলে উভয় দলের জন্য এ দফা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ কারণেই চতুর্থ দফায় সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।





নির্বাচন কমিশন গায়ের জোরে যতোই বলুক- বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সন্তোষজনক হয়েছে- প্রকৃতপক্ষে প্রথম থেকে তৃতীয় দফা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা বেড়েছে। অবশ্য চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণের আগেরদিন শনিবার সে কথা অবশেষে স্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য এ দফায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সেনা বাহিনীকেও বিশেষভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


 


চতুর্থ দফায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন। এ দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক। এছাড়া ভোটের এলাকায় উপস্থিতি ও কার্যক্রম ‍দৃশ্যমান করতে সেনাবাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।


 


চতুর্থ দফা নির্বাচনে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৭ হাজার ৯৫৬ ও নারী ভোটার ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৩১২ জন।


 


চতুর্থ ধাপে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ১৮৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৮৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১২ জন।





এ দফায় মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৮২টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৩৮টি। মোট কর্মকর্তার সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৬জন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮২ জন। সহকারী প্রিসাডিং অফিসারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩২৩৮ জন। পোলিং অফিসারের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬৭৬ জন।





এছাড়া আচারণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ৩৬৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।





গত ১৯ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই দফার উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ৯৭টি, আওয়ামী লীগ ৭৭টি, জামায়াত ২১টি ও অন্যান্য দলগুলো ২২টিতে বিজয়ী হয়। কিন্তু তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।





তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৮১টি উপজেলায় ৭৭টি উপজেলার ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৭ জন ও বিএনপি-সমর্থিত ২৬ জামায়াতের ৭ জন, অন্যান্য ৭ জন প্রার্থী জয়লাভ করে।


 


চতুর্থ দফায় ৯২টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হলেও পরে ঢাকার ধামরাইকে এর সঙ্গে যোগ করা হয়। এছাড়া শেরপুর সদর এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে।


 


নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শুক্রবার মধ্য রাতে শেষ হয়েছে চতুর্থ দফার প্রচারণা। এছাড়া অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।


 


উপজেলা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। তা ভোটগ্রহণের ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোনো ব্যক্তি কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোষী সাব্যস্ত হলে, সেই ব্যক্তি অন্যূন ৬ মাস অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।


 


ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে বরাবরের মতো মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। পরবর্তী নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণ করতে ও সহিংসতা রোধে সেনাবাহিনীক আরো দৃশ্যমান হতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি শনিবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বরাবর পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


 


চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যে কোনো সহিংষতা রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি/কার্যক্রম নির্বাচনী এলাকায় দৃশ্যমান করার জন্য মাননীয় নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


 


চিঠিতে আরো বলা হয়, কোনো প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নজরে আসামাত্র সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা সিআরপি (দ্য কোড অব ক্রিমিনিাল প্রসিডিউর-১৮৯৮) এর ১৩১ ধারা অনুসারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।


 


সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে র‌্যাব, পুলিশ বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার।


 


এদিকে নির্বাচনের সহিংসতা রোধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইমেইল বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। ইতোমধ্যে সিইসির নির্দেশনা মতো ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।


 


সিইসি ইমেইল বার্তায় বলেছেন, ‘দু’একটি ঘটনা ছাড়া পূর্বের নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আশা করি, কোনো সহিংসতা ছাড়াই আগামী নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করবেন।’ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে নিদের্শ দেন সিইসি।


 


এদিকে চতুর্থ দফা নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার বিকেলে ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক।


 


সংবাদ সম্মেলনে মোবারক বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে এবং অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা কালো হাত বাড়ালে তা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’


 


এছাড়া নির্বাচনে অনিয়ম করলে ফৌজদারি আইনে মামলা হবে এবং ভোটের পরও মামলা চলবে বলে তিনি সতর্ক করেন।


 


এক নজরে ৯১ উপজেলা


ঢাকার ধামরাই, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, ফরিদপুর; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড; নড়াইলের নড়াইল সদর; খুলনার তেরখাদা, রূপসা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ ও ফুলতলা; পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়ীয়া ও জিয়ানগর; টাঙ্গাইলের কালিহাতি, মধুপুর, নাগরপুর ও ভুয়াপুর; হবিগঞ্জের সদর, নবীগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ ও লাখাই; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; রাজশাহীর তানোর, বাগমারা ও পুঠিয়া।


 


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর; পটুয়াখালীর সদর, দুমকী, বাউফল, গলাচিপা ও মির্জাগঞ্জ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, নাসিরনগর; কুমিল্লার মেঘনা ও বরুড়া; চাঁদপুরের শাহরাস্তি; ফেনীর সোনাগাজী ও ফুলগাজী; দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী; যশোরের সদর ও কেশবপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, বাগেরহাট মোল্লারহাট ও চিতলমারী;  ভোলার তজুমুদ্দিন, দৌলতখান ও মনপুরা; বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও বানরীপাড়া; গাজীপুরের কালিয়াকৈর।


 


রাঙামাটির জুড়াছড়ি, সিলেট সদর ও কানাইঘাট; চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারা; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, সিরাগঞ্জের চৌহালী, মৌলভীবাজার সদর শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ, নাটোরের বড়াইগ্রাম, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও ধর্মপাশা; চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ঝালকাঠী সদর, কাঠালিয়া, নলসিটি ও রাজাপুর, বগুড়ার গাবতলী, নেত্রকোনা মদন, কিশোরগঞ্জ ভৈরব, ইটনা, মিঠামাইন, তাড়াইল ও কটিয়াদি; বরগুনার বেতাগী; কক্সবাজারের রামু ও কুতুবদিয়া; বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!