DMCA.com Protection Status
ADS

শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাঃ আসামি মুরাদকে ১৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হলো

image_117151ক্রাইম ডেস্কঃ  ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনার প্রধান আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে (৪৮) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার বেলা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে সিআইডি'র কাছে হস্তান্তর করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা ছাড়াও ১৯৯৫ সালের ১৫ অক্টোবর পূর্ব বাসাবোতে পলাশ নামে এক যুবককে হত্যা ও ঐ বছরে শাজাহানপুরে চাঁদার দাবিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় পৃথক দুইটি মামলা রয়েছে। এই তিনটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। বুধবার বিকালে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রে নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি'র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ।

সাংবাদিক সম্মেলনে সিআইডি'র বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করে। তারা একযোগে গুলি চালিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে 'কর্নেল ফারুক জিন্দাবাদ' শ্লোগান দিয়ে চলে যায়। ঐ সময় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য হাবিলদার জহিরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিআইডি'র তত্কালীন সহকারী পুলিশ সুপার খালেক উজ্জামান ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তত্কালীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এই ১৬ জন আসামি হলেন লে.কর্নেল (অব.) ফারুক রহমান (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর), লে.কর্নেল (অব.) আব্দুর রশিদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর), রেজাউল ইসলাম খান ওরফে ফারুক ওরফে ফারুক রেজা, হুমাউন কবীর (জামিনে মুক্ত) , গাজী লিয়াকত ওরফে কালা লিয়াকত, মিজানুর রহমান (জামিনে মুক্ত) , জর্জ, শাজাহান ওরফে বালু (জামিনে মুক্ত), গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত), জাফর আহমেদ মানিক (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভূক্ত), নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন ওরফে ইমাম (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত), হুমায়ুন কবীর (জামিনে মুক্ত) ও খন্দকার আমিরুল ইসলাম ওরফে কাজল (জামিনে মুক্ত)। এই আসামিদের মধ্যে জর্জ, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন ও ফ্রিডম সোহেল গ্রেফতার রয়েছেন। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। ২৭ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আবারও ঝুলে যায়।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, মুরাদ ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে গ্রেফতার হওয়ার পর ঐ বছরের ৩ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পালিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করে তিনি ব্যবসা করতেন। তাকে ধরিয়ে দিতে ইন্টারপোলে রেডএ্যালার্ট জারি করা হয়। ২০১২ সালে মুরাদ যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েন। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!