আবুধাবিতে মধ্যরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জরুরী বৈঠক

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তপ্ত ইসরায়েলের ঘরোয়া রাজনীতি, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চরম সংবেদনশীল ঘটনা। সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে আচমকা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) উড়াল দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সিএনএন, রয়টার্স ও এপির বরাতে এই খবর চাউর হতেই তেল আবিব থেকে আবুধাবি হয়ে ওয়াশিংটন পর্যন্ত চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

 

বৈঠকে যা নিয়ে আলোচনা: ইরান ও ৭ অক্টোবরের সতর্কবার্তাঃ

কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই হাই-প্রোফাইল গোপন বৈঠকের নেপথ্যে প্রধানত দুটি সংবেদনশীল কারণ কাজ করেছে:

১. ইরান বিরোধী প্রতিরক্ষা অক্ষ: ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথের সংঘাতের মুখে যৌথ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা জোরদার করা ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

২. ৭ অক্টোবরের সতর্কবার্তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে সম্প্রতি দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের আগেই ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, বৈঠকে নেতানিয়াহু আমিরাতি প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান যেন তারা এই সতর্কবার্তার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেন। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর ও ইউএই এই বৈঠকে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে তথ্যটি অস্বীকার করেছে।

নিরাপত্তা সেন্সরশিপ লঙ্ঘন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক তোলপাড়ঃ

নেতানিয়াহুর এই অতি-গোপন সফর ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের ভেতরের রাজনীতিতেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের খবর প্রথম সম্প্রচার করার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’ চরম নিরাপত্তা নীতি ও সেন্সরশিপ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে চ্যানেল ১২-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।

নির্বাচনের আগে ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতিঃ

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা যখন নেতানিয়াহুর ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতাকে প্রধান হাতিয়ার বানিয়েছেন, তখন রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে রয়েছেন তিনি। তবে প্রকাশ্যে আঞ্চলিক উত্তাপ থাকলেও ২০২০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর ভিত্তিতে গঠিত ইসরায়েল-ইউএই গোপন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো যে এখনও সমান সক্রিয়, নেতানিয়াহুর এই সারপ্রাইজ ভিজিট তারই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল।