
ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সপ্তাহে তিন দিন ‘হোম অফিস’ চালুর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেনের সই করা এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য দেখিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যদিবস কমানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা চিঠি জারি করেনি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি কুচক্রী মহল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভুয়া চিঠিটি ছড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে এবং সময়সূচি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই ভুয়া চিঠির উৎস খুঁজে বের করতে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবরের বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা দাপ্তরিক আদেশ সবসময়ই মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং মূলধারার গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অননুমোদিত কোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে যখন নানা আলোচনা ও পরিকল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের গুজব ছড়ানোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও সরকারি অফিসের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভুয়া চিঠির বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই তড়িৎ বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।



