বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের কাছে খোলা চিঠি

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের স্বাধীনত্তা উত্তর বাংলাদেশ আজ এমন এক ঐতিহাসিক মুহুর্তে দাঁড়িয়ে,  যখন নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ। আর এই ইতিহাস পরিবর্তন হবে তোমাদের সিদ্ধান্তে। নির্ধারিত হবে আমাদের নির্বাচনের ফলাফল কি অপপ্রচারকারীরা ছিনিয়ে নিবে, না কি তরুন প্রজন্ম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর একটু চিন্তাভাবনা করবে? তোমরা যাই কর, তার আগে একটু চোখ বন্ধ করে দূর এবং নিকট অতীতের অলিগলি দিয়ে  একটু হেটে আসা যায় না? 
কি দেখছ তোমরা? তোমরা কি দেখছনা এই দেশের ইতিহাস কিভাবে তোমাদের চোখের সামনেই হাইজ্যাক হয়ে গেছে? একটি দল হঠাৎ করে নিজেদের  স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসাবে নিজেদের জাহির করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অথচ তারা শুধু এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেনি, মতাদর্শের কারণে সেটা করলে আমরা হয়ত তাদের সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। কিন্তু তারা বিরোধিতার পাশাপাশি নিজেরা সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে , পাকিস্তানী বাহিনীকে বাংগালী নিধনে সাহায্য করেছে এবং সবচেয়ে ঘৃন্য যে কাজ – তারা আমদের মা বোনদের পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এই তিন অপরাধের জনা আমরা তাদের কখনো ক্ষমা করব না। তোমরা কি করবে? 
প্রিয় তরুন প্রজন্ম তোমরা কি জুলাই বসন্তের আগে কখনো ডাক্সু ভিপিকে দেখেছ? কিন্তু ৫ই আগস্টের পর সেই যেন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতির কর্নধার। অথচ জুলাইয়ের অনেক আগে থেকে যে আবিদের প্রতিবাদী কন্ঠস্বরে উজ্জিবীত হয়েছে লাখো মানুষ, জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলিতে যার সেই বলিষ্ট কন্ঠস্বর ‘প্লিজ কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’ আজও আমাদের কানে ধ্বনিত হয়, সেই আবিদ থেকে কিভাবে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে,সেটা নিয়ে কখনো ভেবেছ? এটাই প্রযুক্তির শক্তি। ৫ই আগষ্টের অনেক পরে একজন সাংবাদিক লিখল ‘এই সেই’ তোমরা হৈ হৈ করে উঠলে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছ, জুলাইয়ের সব কৃতিত্ব দাবী করা দলটির দশ জন নেতাকেও যখন পুরো জুলাই জুড়ে কোথাও দেখা যায়নি, তখন বিএনপি নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যনি, এমনকি বয়স্ক নেতা গয়েশ্বর রায়কেও সরব দেখা গেছে রাজপথে। অন্য দলটি কখনো সাইদ তো কখনো মুগ্ধের লাশ নিয়ে রাজনীতি করে চলছে, তাদের নিজ দলের বলে মিথ্যা দাবী তুলেছে। অথচ চাইলেই বিএনপি ওয়াসিমকে জুলাইয়ের পোষ্টার বয় বানাতে পারত, তারপরও বিএনপি ৪২২ জন শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই বসন্তের ন্যুনতম দাবী করেনি। দাবী করেনি বিগত ১৬ বছর রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে, কয়েক হাজার হত্যাকান্ড এবং অসংখ্য গুমের শিকার হয়েও ভিক্টিম সাজতে। এখানেই পার্থক্য বিএনপির সংগে অন্য দলটির।
আর হবেই বা না কেন, এদেশের সৃষ্টি এবং পথচলার প্রতিটি বাক যে বিএনপিময়। ইতিহাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকে একটি জাতির বুনিয়াদ। ১৯৭১ সনের ২৬ শে মার্চ গভীর রাতে যখন পাক হানাদার বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের উপর শতাব্দীর নির্মম গনহত্যার সূচনা করে, প্রধান নেতা যখন পাকিস্তানীদের হাতে বন্দী, তখন আগ্রাবাদ রেল ক্রসিং এর কাছে দাড়িয়ে একজন মেজর জিয়া প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন ‘উই রিভোল্ট’। পরদিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা সেই দৃপ্ত কন্ঠস্বর “ আমি মেজর জিয়া বলছি” হতোদ্যম জাতীকে যুগিয়েছিল সাহস, অমানিশার ঘোর কালো অন্ধকারে ডুবে যাওয়া মানুষ প্রথম জানতে পেরেছি;ল তারা একা নয়, একতাবদ্ধ জাতি ঝাপিয়ে পরেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যটা ছিনিয়ে আনার অসম লড়াইয়ে এবং আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। 
এর পরের গৌরবজ্জল ইতিহাস কি তোমরা জান? স্বাধীনতা উত্তর দেশটিকে হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ী’ বটমলেস বাস্কেট। মাত্র সাড়ে তিন বছরে এদেশের খোল নলচে পালটিয়ে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ দ্রুত খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতার পথে  হাটে, তিনি সৌদি বাদশার দান ফিরিয়ে দিয়ে শ্রমবাজারের দ্বারন্মোচন করেন, আমাদের পরিচয় হয় রেমিটেন্স শব্দটার সঙ্গে, তার হাত ধরে বাংলাদেশ প্রবেশ করে পোশাক শিল্পের সম্ভবনাময় বাজারে, যা আমাদের আয়ের রপ্তানী আয়ের প্রধান পন্য । আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ হয়ে উঠে চর্চিত নাম। ইরান ইরাক যুদ্ধ থামাতে তিনি দুতিয়ালি করেন। চিন্তা করতে পার, তৃতীয় বিশ্বের একজন প্রেসিডেন্ট সমগ্র বিশ্বের প্রতিনিধি হিসাবে সকালে উড়ে যাচ্ছেন ইরাক, রুদ্ধদার মিটিং করছেন সাদ্দাম হোসেনের সংগে, লাঞ্চ করেই ছুটছেন তেহরান যেখানে তার অপেক্ষায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেনী? তাকে বহন কারী কাতার এয়ারওয়েজের বিমানটি দিনের পর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করত পাইলট এবং ক্র নিয়ে। তোমরা  কি বিশ্বাস করবে, আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে রুপকথার মানুষ, অথচ জিয়াউর রহমান আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সংগে রেড কার্পেট শেয়ার করেছেন, হোয়াইট হাউজে যৌথ সংবাদ সন্মেলনে অংশ নিয়েছেন? 
হে তরুন প্রজন্ম, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখেছ, তার দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের কথা হয়ত শুননি। তিনি প্রথম এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার অঙ্গীকার করে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং জামাত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় বেইমান নামে পরিচিত হয়। তিনি হয়ে উঠেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী। সেদিন এরশাদ সাহেব তাকে যেমন প্রলোভন দেখিয়েছিল, তেমনি মইন ইউ আহমেদ তাকে ক্ষমার পরিবর্তে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রলোভনগুলি পায়ে দলেছিলেন। একইভাবে তিনি বিদেশ চলে যাওয়া অথবা সংসদে বিরোধী দলের নেতা হওয়ার প্রলোভনও ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে, কারাগারের স্যাতসেতে অন্ধকার প্রকোষ্ট বেছে নেন। কারণ তিনি জানতেন, তিনি আরাম আয়েশের জীবন বেছে নিলে, তার নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলবে, দল ভেংগে যাবে।
প্রিয় তরুন প্রজন্ম, বিএনপিকে চাদাবাজের ট্যাগ লাগিয়ে ‘হিডেন কন্ট্রিবিউশান ওপেন সেলিব্রেশনের’ একটি দল গত দেড় বছরে নিজেদেরকে এমন মহান বানিয়ে ফেলেছে যে, তোমাদের মাথায় একবারও এই প্রশ্ন আসেনি, হাজার কোটি টাকার প্রচারনার টাকা তারা পেল কোথায়? মানবজমিনের হিসাব অনুযায়ী তাদের প্রথম মহাসমাবেশটিতে খরচ হয়েছিল ১১০ কোটি টাকা। তাদের ভিপি সাহেব চলাফেরা করেন হেলিকপ্টারে, সকালে হাজারখানেক সাইকেল নিয়ে রেস করেন ফুলহাতা দামি গেঞ্জিতে, তো বিকালে ক্রিকেট খেলেন হাফ হাতা টি শার্টে । আমরা সবাই এইগুলির মূল্য জানি। আর জানি বলেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন জিততে শত কোটি টাকার গল্পটি মিলে যায়। নিজেদের রহস্যপূর্ন জীবনযাপনের হিসাব না দিয়ে, এরা আমাদের দিচ্ছে চাদবাজ হিসাবে গালি। প্রিয় ভাই ও বোনেরা বিএনপির ৬০ লাখ লোকের বিরুদ্ধে হাসিনা মামলা দিয়েছিল। মামলা প্রতি ১৬ বছরে মাত্র ১ লাখ টাকা খরচ ধরলেও (প্রকৃত ক্ষেত্রে যা ছিল অনেক বেশী), শুধু আদালাতের পিছনে তাদের ব্যায় হয়েছে ৬০০০০ কোটি টাকা। বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাবসা এবং সম্পত্তি দখল হয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার। এই বিশাল ক্ষতির খুব কমই তারা ফেরত পেয়েছে। যেই চাদবাজি বা দখলের গল্প সাজিয়ে অন্য দলটি বিএনপির ক্ষতি করেছে তাদের নিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যাবহার করে, তারা জানে এর ৭০% মিথ্যা। এই দখলের বেশিরভাগ নিজস্ব সম্পত্তি পুনর্দখল যা আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেতে ১০ থেকে ৩০ বছর লেগে যাবে। তাছাড়া তোমার কোন কিছু কেউ জোড় করে কেড়ে নিলে তুমি কি আদালতের আশায় বসে থাকবে? চাদাবাজির অভিযোগ অস্বিকার করছি না কিন্তু এটাও সত্যি আমাদের আর্থ সামাজিক ব্যাবস্থায় চাদাবাজির ব্যাপারটি বহু প্রাচীন এবং সর্বব্যাপী। এই চাদাবাজির পিছনে সবাই জড়িত, এরা সব দলের, শক্তিশালী একজনের সাইনবোর্ড ব্যাভার করে। একটি নির্বাচিত সরকার ছাড়া এর মূলোতপাটন করা সম্ভব নয়। বিএনপি এই ব্যাপারে অংগীকার করেছে এবং তোমাদের জানার জন্য বলি, বিএনপি এর আগে ক্ষমতায় গিয়ে অপারেশন ক্লিন হার্ট করেছে, র‍্যাব গঠন করেছে। নিজ দলের নেতা কর্মীরাই যেই অভিযানগুলিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কাজেই বিএনপির উপর পূর্ন আস্থা রাখতে পার। আর সাধু দলটির বিরুদ্ধে চাদাবাজির হিসাবটা জান? তোমরা যখন ক্ষিপ্ত হয়ে স্বৈরাচারের দোসর মনে করে একটা কর্পোরেট মিডিয়া হাউজের উপর চড়াও হলে, ওরা তাদের রক্ষার নামে একরাতে ২০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ারত অভিযোগ আছে। নাবিল গ্রুপ থেকে হাজার কোটি টাকা কামানোর অভি্যোগো বায়তাসে ভেসে বেড়ায়। দেয়ালে কান পাতলেই শুনবে, বিএনপি নামধারীদের ছিচকে চাদাবাজির দিকে তোমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে তারা নীরবে কয়েক হাজার কোটি টাকার কর্পোরেট চাদাবাজি করেছে, বিদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা জাকাত ফেতরা এনেছ্ চাকরি, পদোন্নতি এবং বদলীর একচেটিয়া ব্যাবসা করে কামিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা । 
প্রিয় তরুন বন্ধুরা,
ঋনখেলাপী নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বিএনপি ব্যাবসা বান্ধব দল, তাই এই দলে ভাল ব্যাবসায়ীদের হাট বসেছিল। একটি দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র মাধ্যম হল ব্যাবসা। অথচ সেই ভাল ব্যাবসায়ীদের আজ একটি দল তোমাদের কাছে উপস্থাপন করছে ঋনখেলাপী হিসাবে । একবার ভাবোতো, তুমি জেলবন্দী ১১ বছর। তোমার ৩৮ টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় ৬টি আওয়ামী লীগ দখল করে রেখেছিল আর বাকী ৩২ টি বন্ধ ছিল। মূল ঋন ছিল ৫০০ কোটি টাকার কম যা্ সুদে আসলে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭০০ কোটি টাকা। উন্নত দেশ হলে তিনি ক্ষতিপুরন পেতে। কারণ ব্যাবসায়ীরা ব্যংকের টাকা নেয় ফেরত দেয়ার জন্য, নিজের ব্যাবসা বড় করার জন্য। চটগ্রামের আসলাম চৌধুরী ব্যাংকিং এবং ফাইনান্সে প্রথম শ্রেনী পাওয়া এবং চার্টার্ড একাউন্টেন্ট । ব্যাবসা যিনি ভাল বুঝতেন। জেলে না গেলে তিনি আজ কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক থাকতেন, বট বাহিনী তাকে একজন মাফিয়া বানিয়ে দিয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য সবার জন্য। সিলেট সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী মুক্তাদির সাহেবের কথাই ধর, ২৯০ কোটি টাকা ঋনের বিপরীতে তিনি পরিশোধ করেছেন ৩০০ কোটি টাকার উপর, অথচ তার ঋন বেড়ে হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে, সাড়ে ছয় বছর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি, তিনি জেলে গিয়েছেন। কিন্তু কষ্টের ব্যাপার হল, একই সময়ে তথাকথিত ইসলামি দলটির শীর্ষ নেতারা মেয়র কামরানের সংগে জমি্র ব্যাবসা করেছে, হাসপাতাল চালিয়েছে। আর এভাবেই একটি দিন জেল না খেটে, ব্যাবসায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে তারা আজ সাধু সেজেছে আর যারা হাসিনা সরকারের  রোষানলে পরে নুতন ঋন না নিয়েও পুরানো ঋনের সুদ বাড়তে বাড়তে খেলাপি হয়েছে, তাদেরকে নিয়ে সম্পুর্ন অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যার বেসাতি করছে। 
প্রিয় তরুন বন্ধুরা,
তোমরা তো অনেক নীতিবান, পান থেকে চুন খসলে রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ কর। কিন্তু কখনো কি মনে হয়নি পিনাকি এবং ইলিয়াস কখনো তোমাদের গড়তে বলেনা কেন? সবসময় সব কিছু ভাংতে বলে। পিনাকি হিন্দু, সে মুখে যাই বলুক। ইলিয়াস স্বঘোষিত দেশদ্রোহি, সে বিজয় দিস মানেনা। জ্যাকব মিল্টন মুসলিম থেকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত। বনি আমিন নাস্তিক, মেয়ে জামাইয়ের টাকা মেরে দেওয়া চরিত্রহীন। কনক ভোল পাল্টানো সাংবাদিক। এই পাঁচমশালী মালকে দলটি ম্যানেজ করল কিভাবে? উত্তর হল যেভাবে ওরা দরিদ্র ভোটার কিনেছে। তারপরও যদি ওদের কথায় বিভ্রান্ত হও, তখন অন্ধকার ভবিষ্যতের কোন একদিন তোমাদের সতর্ক না করার জন্য আমাদের দোষ দিওনা।
প্রিয় তরুন বন্ধুরা 
আর লম্বা করে তোমাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাব না। শুধু দুটি প্রশ্ন রেখে যাই তোমাদের চিন্তার খোরাক হিসাবে। তোমরা কি এমন রাজনৈতিক দল দেখতে চাও যেখানে চিন্তার কোন বিকাশ হয়না, কেন ওকে নয় আমাকে মননোয়ন দেয়া হোলনা। এই নিয়ে মনোমালিন্য হয়না? কেন্দ্র সব জানে বলে ভেড়ার পালের মত নেতাকে অনুসরণ করে। কিন্তু নিজের ভাল মন্দ প্রকাশ করতে পারেনা। মুক্ত চিন্তা করা যারা শিখেনি, তারা কিভাবে তোমাদের মুক্ত বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে? ওদের পদ্ধতি অনেকটাই উত্তর কোরিয়ার মত। বিএনপির ছোটখাট চাদাবাজি নিয়ে তোমরা এত চিন্তিত, অথচ তাদের ব্যাংক,হাসপাতাল, জমি এবং আবসন, ফার্মাসিউটিক্যালস, ছাপাখানা থেকে শুরু করে হাড়ি পাতিল বানানোর ফ্যাক্টরি, বেনামি এনজিও, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার, কি নেই ? একটা রাজনৈতিক দল রাজনীতি করবে, এত টাকার কি প্রয়োজন? ভাবতো এমন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে তোমরা কি কোন ব্যাবসায় হাত দিতে পারবে? সরকারি কোন টেন্ডারে অংশগ্রহন করার দুঃসাহস দেখাবে? চাকরি? পাবে তোমরা? ইসলামি ব্যাংক কি উদাহরণ হিসাবে যথেষ্ট নয়? মাত্র ১৮/১৯% বিনিয়োগ তাদের, অথচ ব্যাংকে মালিকানা শতভাগ, চাকরির ক্ষেত্রে তাদের ছাত্র সংগঠন না হলে চাকরি পাওয়া অসম্ভব। এক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকে ৫৫০০ কর্মী ছাটাই, নিজেদের শতভাগ লোক যাদের অনেকে পিয়ন থেকে অফিসার হয়েছে তাদের নিয়োগ দিতে তারা লজ্জিত হয়নি, একজনের আত্মহত্যা বা অন্তসত্বার  আর্তনাদ তাদের ব্যাথিত করেনি, এই অন্যায়ের প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া লোকটি রাস্ট্রযন্ত্রের নির্লিপ্ততার মধ্যে অপঘাতে মারা গেল, কেউ টু শব্দটি করার সাহস পায়নি। এভাবেই তোমাদের চোখের সামনে তারা সর্বগ্রাসী হবে, কপাল চাপড়ানো ছাড়া তোমদের কিছু করার থাকবে না। কারণ তোমরা ওদের ভাল চেহারাটা দেখেছ, পর্দার আড়ালের ভয়ংকর রুপটা চিনে আশি আর নব্বই দশকের রাজশাহী এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদযালয়ের ছাত্ররা।
হে তরুন বন্ধুরা, একটা কথা মনে রেখ বিএনপি কখনো কথার বরখেলাপ করেনা। বিএনপি ১৬ বছর একা গণতন্ত্র এবং ভোটের জন্য লড়াই করেছে, এমন না যে ৫ ই আগস্টের পর পর থেকে এই দাবী করছে। অন্য দলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবী তুলেছে, সকালে একটা তো বিকালে আরেকটা । নিশ্চিত থাকো তোমাদের দেয়া কোন দাবী ওরা রাখবে না। এখন পছন্দ তোমাদের । কালকে ভোটটা দেয়ার সময় এই কথাগুলি একটু চিন্তা কর। বিএনপি তোমাদের আশাহত করবে না। এই বিএনপির ছাত্রদল ছিল আশি আর নব্বইয়ের সবচেয়ে মেধাবী তরুন তরুনীদের আস্তানা। তাদের বয়স এখন ৫০ থেকে ৭০। তারা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের সব নামকরা প্রতিষ্ঠানে । এদের প্রায় সবাই জনাব তারেক রহমানের, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মানের সাথী। বিএনপিকে ভোট দিলে তাই তোমরা ঠকবে না। দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা দলটিকে তোমরা  দায়িত্ব দাও, জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রক্তের উত্তরসুরী তোমাদের নিরাশ করবেন না, ইনশাল্লাহ। 

লেখকঃ লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাংবাদিক-কলামিস্ট ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজু ( প্রথম বাংলাদেশ )

 

Share this post

scroll to top