মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপীল

ক্যাপ্টেন(অবঃ) মারুফ রাজুঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির অন্যতম  প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপীল করেছেন একই আসনের গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী। 
শুক্রবার আগারগাও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে- মুশফিকুর রহমান বাংলাদেশ এবং  কানাডার দ্বৈত নাগরিক। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি এই  দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের কোন প্রমানপত্র না দিলেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন এবং গত ৩ জানুয়ারি তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। 
আবেদনে বলা হয়েছে- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৪৫ এবং নির্বাচন বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৫ অনুসারে মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধতা ঘোষণার বিরুদ্ধে তিনি এ আপীল করছেন। 
উল্লেখ্য, বিএনপির সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর কানাডা ছিলেন। সেখানে তিনি নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন। ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে আসেন। তবে অত্যন্ত  বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারনে তিনি ঠিকমতো চলাচলও করতে পারেন না। 
তিনি নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় গত ২১-১২-২৫ সাল তারিখে ক্যানাডা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অথচ এই প্রতিবেদক কানাডা  ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আইনজীবীর সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছেন ক্যানাডার নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, এই নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন গৃহীত  হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। নাগরিকত্ব পরিত্যাগের  আবেদন করলেই যে  আবেদন গৃহীত  হবে  তারও কোন  নিশ্চয়তা নেই।তাই তাই এত অল্প সময় ে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়।  

আপিলকারী জনাব জহিরুল হক চৌধুরী বলেন তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষতার  কারণে এই  আপিল করেননি, বরং অন্যায় এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই এই  আপিলটি করেছেন। তিনি  আশা করেন নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুঙ্খানুপুংখ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Share this post

scroll to top