মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ফিরছেন তারেক রহমান

ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজু: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় তিনি বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। তার সঙ্গে থাকবেন মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ১৭ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাজ্য থেকে তার এই দেশে ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজন করছে বিএনপি। সেদিনই তার জন্য একটি সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এজন্য বিমানবন্দর বা এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে। এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীদের জন্য সাতটি রুটে ট্রেন ভাড়া নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে বিএনপি।

কূটনৈতিক একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে ফিরতে এরই মধ্যে ‘ট্রাভেল পাশ’র জন্য আবেদন করেছেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এ আবেদন করেন। বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ওয়ান-ওয়ে টিকিট তারেক রহমানসহ ছয়জনের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার  জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে আসবেন। লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা চাই তার (তারেক রহমান) এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন যেন বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে যেভাবে, যা কিছু দৃষ্টান্ত হয়েছে, তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরের ইতিহাসেও যেন সে রকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না ঘটে, তেমনভাবে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের সব আয়োজন হচ্ছে।’ তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সড়কপথে সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছেন তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে বিএনপির গঠন করা অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেবিচক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল, তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকাল চারটায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সরেজমিন বিমানবন্দরে যেখানে তারেক রহমান অবতরণ করবেন, সে জায়গা, কোথা থেকে গাড়িতে উঠবেন এবং সব রাস্তা পরিদর্শন করেছি। যেখান থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, বাসায় যাবেন। সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সমন্বয়ক করছি।

তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো এবং তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

সারা দেশ থেকে নেতাকর্মী আসা শুরু হবে ২৪ ডিসেম্বর : সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসবেন। আমরা দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছি, কীভাবে তারা ২৪ ডিসেম্বর রাতের মধ্যে অথবা ২৫ ডিসেম্বর সকালের মধ্যে ঢাকায় আসবেন। এরই মধ্যে সারা দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংবর্ধনার প্রস্তুতি : সংবর্ধনা হবে কোথায় জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, এটা এখনো ঠিক হয়নি। আমরা জায়গাগুলো দেখছি। দেশের জনগণ তাকে একনজর দেখার জন্য উদগ্রীব ও উন্মুখ হয়ে আছে। তার কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সেজন্য আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি, সেটা কোন জায়গায় হলে ভালো হয়। বিমানবন্দর বা এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে। অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অভ্যর্থনা কমিটি কাজ করছে পুরোদমে। কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সেদিন মানুষের যে উপস্থিতি হবে, সেটা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক হবে। ইতিহাসের স্মরণীয় জনসমাগম নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এই কমিটি দিনরাত পরিশ্রম করছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকায় আসার পর তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন। এই বাসার পাশেই ‘ফিরোজা’। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক বছর ধরে এ বাসাতেই থাকছেন।

৭ রুটে বিশেষ ট্রেন ভাড়া চেয়ে আবেদন : এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীদের জন্য সাতটি রুটে ট্রেন ভাড়া করবে বিএনপি। ২৪ ডিসেম্বর রাতে ওই সাতটি বিশেষ ট্রেন অতিরিক্ত বগিসহ রিজার্ভের অনুমতি চেয়ে বৃহস্পতিবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দলটি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধ করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই চিঠি দিয়েছেন। বিএনপির চিঠিতে সাতটি রুটের ট্রেনের কথা উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো কক্সবাজার-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর-ঢাকা ও কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা রুট।

চিঠিতে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন। তাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা ঢাকায় আগমন করবেন। তাদের সুবিধার্থে বিএনপি ২৪ ডিসেম্বর রাতের বিভিন্ন রুটের রেলগাড়ি রিজার্ভ করতে ইচ্ছুক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধ করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা চিঠিতে বিএনপি প্রতিটি রুটে একটি করে বিশেষ ট্রেন অতিরিক্ত বগিসহ রিজার্ভ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

Share this post

scroll to top