ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজু: কসবা-আখাউড়ার জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভুইয়ার বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফলে তাকে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
কবীর আহমেদ ভুইয়া বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের অন্যতম রুট কসবা আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারির কথা বলে আসছেন। নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি কসবা আখাউড়ায় যুবকদের নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। তাই দেশের মাদক সিন্ডিকেট কসবা আখাউড়ায় আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার বিকল্প খুঁজে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। যাতে করে তাদের মাদকের আন্তর্জাতিক রুটটি হারাতে না হয়। সিন্ডিকেটটি বিকল্প হিসেবে বয়োবৃদ্ধ মুশফিকুর রহমানকে বেছে নেয়। সেই সাথে মুশফিকুর রহমানের পাঁচ সহযোগীকে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট হিসেবে ব্যবহার করে নানাবিধ গেমপ্ল্যানের মাধ্যমে কবীর ভূঁইয়াকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়।
ত্রিপুরায় বাংলাদেশি উপ হাইকমিশনে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা হলে কবীর আহমেদ ভুইয়া উক্ত হামলার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। এবং ত্রিপুরা মুখী লং মার্চে কসবা আখাউড়ার অভিভাবক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। আখাউড়া সীমান্তে গিয়ে শেষ হওয়া উক্ত লং মার্চের যাবতীয় আয়োজন আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া নিজ হাতে তদারকি করেছিলেন। যার ফলে সেদিন জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তির ঢল নেমেছিল ভারত সীমান্তে।
এরপর পরপরই ঘাপটি মেরে থাকা দেশের স্বার্থ বিরোধী একটি শক্তির কোপানলে ছিলেন আলহাজ কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মতোই উক্ত অপশক্তি তাঁর প্রতিটি কর্মকান্ডে বাধা সৃষ্টি করতে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করায় পাইওনিয়ার ছিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। দলের প্রকৃত ত্যাগীরা যখন নেতাকর্মীদের ভোটে নেতৃত্বে আসতে থাকে তখনই প্রতিকূলতা তৈরি করা হয়। এরপর জেলা সম্মেলন বানচলে নানামুখী চক্রান্ত চালানো হয়েছিল। সবশেষ বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কসবা আখাউড়ার ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয় কবীর আহমেদ ভূইয়াকে। মাত্র ১৫ দিন আগে জেগে উঠা জনবিছিন্ন সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কসবা আখাউড়ার ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়ন।
রাজনৈতিক কর্মকান্ড, স্থানীয় জনপ্রিয়তা, দুঃসময়ে দলের জন্য আত্মত্যাগ সমস্ত মানদন্ডে এগিয়েছিলেন আলহাজ্ব কবীর আহমাদ ভূইয়া। বিগত সতেরো বছর প্রবাসে আরাম আয়েশে কাটিয়ে দেওয়া প্রার্থীকে ডেকে দেয়া হলো বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন!! ১৭ বছর ধরে এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন কানাডা প্রবাসী মুশফিকুর রহমানের হাতে হঠাৎ করেই বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপত্র ধরিয়ে দেওয়া হলো। একটি পক্ষ তাকে প্রবাস থেকে ডেকে এনে দেশবিরোধী সিন্ডিকেটের চক্রান্তগুলো বাস্তবায়ন করছে। নানাবিধ চক্রান্তের ফলে বঞ্চিত হলেন কবীর ভূইয়া।
অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ ও জনবিচ্ছিন্ন মুশফিকুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়নে টিকিয়ে রাখার জন্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এখনো নানা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছে। কসবা আখাউড়ার মাদক সাম্রাজ্য ধরে রাখার জন্য এবং মাদকের আন্তর্জাতিক রুট অক্ষত রাখতে কবীর ভূইয়ার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটটি পুরো মাত্রায় কাজ করছে। সেই সাথে দেশবিরোধী সিন্ডিকেটও সক্রিয় আছে তার বিরুদ্ধে।
বিএনপি একটি বিশাল গণতান্ত্রিক দল। নেতাকর্মীদের ভোটে যদি বিএনপি'র ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলার নেতা নির্বাচিত হতে পারে, তবে কেনো নেতাকর্মীদের পপুলার ভোটে একজন এমপি প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারবে না? কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার মত জনপ্রিয় নেতাকে কেন মনোনয়ন বঞ্চিত করা হবে? নেতাকর্মীদের পপুলার ভোট এখানে কার্যকর হবে না কেন?
কাউকে উড়িয়ে এনে জুড়িয়ে বসে দেওয়া হবে আত্মঘাতী। বিগত দিনের দুঃসময়ে যিনি জনগণের পাশে ছিলেন, নেতাকর্মীদের দেখভাল করেছেন, সাহস যুগিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনিই নমিনেশন প্রাপ্তির একমাত্র হকদার।
কসবা আখাউড়ার জনগণের কাঁধে সিন্ডিকেটগুলো বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলছে। জনগনে উপর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে ক্ষত এখনো মুছে যায়নি। তার উপর সিন্ডিকেটের নানা চোখ রাঙ্গানি চলছে। সিন্ডিকেটের এসব জনবিছিন্ন নেতৃত্ব কিভাবে প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করে নির্বাচিত হবে??
কসবা আখাউড়ায় দেশবিরোধী সিন্ডিকেটের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে দেয়া যায় না। সময় এখন দেশপ্রেমিকদের পক্ষে দাঁড়ানোর। দেশবিরোধীদের রুখে দিয়ে কসবা আখাউড়ায় জাতীয়তাবাদের শক্তির বিজয় নিশ্চিত করা হোক। সময় এখন সমস্ত চক্রান্ত গুড়িয়ে দিয়ে আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূইয়াকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সুবিবেচনা করার। তাহলেই গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশে দীর্ঘজীবী হবে।

