পাকিস্তান সমর্থক অনেকে এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতেঃপ্রধান বিচারপতি

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ  মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থক ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির দায়িত্বে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

রবিবার দুপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন এবং খালাস চেয়ে করা সাঈদীর রিভিউ আবেদনের ওপর দুপুর ১২টা থেকে শুনানি শুরু হয়।

এটি শেষ হয় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে সাঈদীর রিভিউ শুনানি হয়। অন্য চার বিচারপতি হলেন- জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার। মাওলানা সাঈদীর পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন এস এম শাহজাহান ও তানভীর আল আমিন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানির শুরুতে আসামির খালাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুরে ছিলেন না। তিনি পরিবার নিয়ে যশোরে ছিলেন। সেখানে মসজিদের পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি পরিবারসহ থাকতেন। তিনি একজন প্রফেশনাল বক্তা। ওয়াজ মাহফিল করে তিনি জীবন-ধারণ করেন। এটাই তার পেশা।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ওই সময় তো বর্ষাকাল ছিল, মে মাস। বর্ষাকালে তিনি কীভাবে ওয়াজ করতেন? মার্চ-এপ্রিল-মে এই তিন মাস ওয়াজ হয় কি-না?

তখন খন্দকার মাহবুব হোসেন ফের বলেন, সাঈদী সাহেব প্রফেশনাল বক্তা। তিনি সারা বছরই ওয়াজ করেন। এটা করেই তিনি সংসার চালাতেন।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার জানামতে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থক ছিল, তাদের পক্ষে অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে।’

এরপর প্রায় এক ঘণ্টা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top