DMCA.com Protection Status
ADS

অপহৃত বিজিবি সদস্যের চিত্র জাতির জন্য চরম লজ্জা ও অপমানজনক: আসাদুজ্জামান রিপন

bgbক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) নায়েক রাজ্জাকের লুঙ্গি পরিহিত রক্তাক্ত ও হাতকড়া অবস্থায় ছবি মিয়ানমারের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এ চিত্র দেখে লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে আসে। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনীর কোন সদস্যকে যেনো অপমানজনকভাবে তুলে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বিজিবিকে পেশাগত ও বাহিনীগতভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ripon1বিএনপির মুখপাত্র রিপন বলেন, বিরোধীদলের আন্দোলন চলার সময়ে বিজিবির মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ বলেছিল অস্ত্র থাকে কেন? এটা ব্যবহার করার জন্য। আমরাও বিশ্বাস করি, অস্ত্র ব্যবহার করতে হয় আইনগতভাবে। কিন্তু অস্ত্র হাতে থাকার পরও বিজিবি সদস্যরা অপহৃত হয়। এটা যাতে ভবিষ্যতে না হয় সেজন্য বিজিবিকে পেশাগতভাবে আরও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির এমন অপমানজনক অবস্থা তৈরি না হয় সেজন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে কড়া সতর্ক করার দাবিও জানান তিনি। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যাতে বজায় থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি মানছে না রিপন বলেন, রমজানের যে পবিত্র শিক্ষা তা বিএনপির পক্ষ থেকে অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, সংঘাত ও রাজনৈতিক অসহিঞ্চুতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আমরা রাজনীতিতে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রমজান উপলক্ষে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে। কিন্তু সরকার আমাদের আহবানে সাড়া না দেওয়ায় আমরা ব্যথিত ।

রিপন আরও বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদল ও সরকার মুখোমুখি অবস্থানে চলে গিয়েছিল। দেশে একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও অসহিঞ্চুতা তৈরি হয়েছিল। সরকার রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে আন্দোলন কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে। তারা এতে সফলও হয়েছে। ‘রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার বিরোধীদলের নেতাদের আটক করে। আন্দোলন শেষে নেতাকর্মীরা কারাগার থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিচ্ছে না । সরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি মানছে না।

অথচ বর্তমানে আমাদের সরকারবিরোধী কোন আন্দোলন কর্মসূচি নেই। আমরা সেই সংস্কৃতি আবার শুরু করতে চাই এবং তা রোজার মাস থেকেই,’ যোগ করেন তিনি। রিপন বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসনের ইফতারের আমন্ত্রনপত্র নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছি। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতা থেকে আমরা এখনও বের হতে পারি। আমার আশা করবো সরকার দেশে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি চালু করতে অবিলম্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকল কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দেবে।

ভেজাল বিরোধী অভিযান বিএনপির এই নেতা বলেন, রমজান উপলক্ষে ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু করতে হবে। রোজা শুরু হলেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। রোজাদারদের রোজাকে সহজ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানাই দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে রেখে সহযোগিতা করুন। বানিজ্যমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকা দাবি করে তিনি বলেন, বাজারের প্রতিটি দ্রব্যমূল্যর তালিকা টানিয়ে দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-দফতর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!