DMCA.com Protection Status
ADS

বাংলাদেশের ঋন পরিশোধে ব্যর্থ ভারতঃ ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষক হার্শ ভি পান্ট

skmodiক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া টুডে’র অপিনিয়ন ওয়েব ডেইলি-ও-ইন-এর জন্য একটি বিশ্লেষণ হাজির করেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক হার্শ ভি পান্ট।

 

তিনি মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভারতের খুব একটা লাভ হয়নি। পাশাপাশি বাংলাদেশের তরফে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে যে জোর প্রচেষ্টা, তার প্রসঙ্গ তুলে লেখক বলতে চেয়েছেন, এই ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত।

 

শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানিতে ভারতের ত্বরিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং তিস্তা চুক্তির ব্যাপারটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কারণ এই তিস্তা চুক্তির উপর  বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি ব্যবস্থা অনেকটাই নির্ভরশীল।

 

বিশ্লেষণে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার ভারত সরকারকে অনেক সহায়তার চেষ্টা করলেও তার অনেক পদেক্ষেপের ঋণই পরিশোধ করতে ব্যর্থ ভারত। বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপি সবসময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নতজানু সম্পর্কের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের কাছে দেশের আত্মসন্মান বিকিয়ে দিয়েছে। ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে ভারতের কংগ্রেস সরকারের শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্কের সর্বোচ্চ অবনতি হয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন হার্শ।

 

তিনি মন্তব্য করেন, ভারত যদি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করে তবে অনেকের মাঝে গড়ে ওঠা ভারত-বিরোধী মনোভাব কমানো সম্ভব হবে। ভারত মূলত আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়েই বেশি চিন্তিত থাকে এবং এর কারণে বাংলাদেশের প্রতি তাদের মনোযোগ সবসময়ই কিছুটা কম।

 

বিশ্লেষণে ২০১০ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির কথা তুলে ধরা হয়। চুক্তির উদ্দেশ্য ছিলো রেলপথে যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন। চুক্তিতে বলা হয় বার্ষিক ১.৭৫ হার সুদে ভারতকে ২০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় তাকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়। এসময় দুই দেশের মাঝে ৩৫ বছরের জন্য একটি বিদ্যুৎ সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেখানে বলা হয় ভারত বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সহায়তা দেবে।

 

এ সময় ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন এর সঙ্গে ১.৭ বিলিয়ন ডলারেরও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেখানে বলা হয় বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। বিশ্লেষেণে, বাংলাদেশের পক্ষে এতগুলো পদক্ষেপের পরেও ভারত তাদের কোনো ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারেনি। কারণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের সবচেয়ে বড় দুটি ইস্যু স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির কোনো আশানুরুপ সমাধান করতে পারেনি ভারত।

 

তবে মোদির বাংলাদেশ সফরের আগেই ভারতের সংসদে স্থল সীমান্ত চুক্তি পাশ হয়ে গেছে। ৪১ বছর ধরে চলে আসা এই বিরোধের অবসান ঘটিয়েই নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। বহু প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তি( ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট-এলবিএ) দুই দেশের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধের অবসান ঘটাবে বলেও মন্তব্য করা হয় ওই বিশ্লেষণে। এর আগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে মোদির সঙ্গে ঢাকা সফরে আসতে সম্মত হয়েছেন তিনিও।

 

মোদির ঢাকা সফরে তাই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে বলে আশা করছে দুই দেশ। মূলত পশ্চিমবঙ্গের কারণেই যা এতদিন আটকে ছিলো। বিশ্লেষণে বলা হয়; অন্যান্য চুক্তির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বেশ ধীর গতিতেই কাজ করছে। দুই দেশের সম্পোর্কন্নয়েনে শেখ হাসিনা একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে। কিন্তু চলমান সমস্যা নিরসনে ভারতের কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেই। বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে ভারতই মূল এজেন্ডা থাকে। ভারতের ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই মূলত বাংলাদেশকে এমন করতে হয়।

 

অনেকে বলেন আওয়ামী লীগ সরকার মূলত ভারতের ‘হাতের পুতুল’। এবং অনেক ইসলামিক দল ভারতকে আক্রমণ করে তাদের অস্ত্বিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হতে হয় উল্লেখ করে ডেইল ‘র বিশ্লেষণে বলা হয়, শেখ হাসিনা একইসঙ্গে ডানপন্থী দল এবং মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামি এবং জামাত-উল-মুজাহিদিনকেও মোকাবিলা করেন। বাংলাদেশে অনেক ইসলামিক সংগঠনই পাকিস্তানের সমর্থন পায়। এই দলগুলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সবসময়ই বিরোধীতা করতে থাকে। বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বও বেশ উষ্ণ।

 

এ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন ‘চীন বাংলাদেশের এমন এক বন্ধু যার উপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায়।’ গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বেশ ভালো হয়েছে। কারণ ভারতের উপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হতে পারে চীন। দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু চুক্তিতে আশানুরুপ ফলাফল না হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। আর এর জন্যই বাংলাদেশ চীনের আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানায় ডেইলি ও।

 

ভারতের সীমান্তে অশান্তি বিরাজ করছে উল্লেখ করে ডেইলি ও জানায়, ভারতের বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও মধ্যপন্থী চুক্তি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নেও ইন্দো-বাংলাদেশ সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুই দেশের জন্যই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অপরিহার্য। দুই দেশের মাঝে অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ভারত এ ব্যাপারে সামনে এগিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারতকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করা হয় ওই বিশ্লেষণে।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!