DMCA.com Protection Status
ADS

শেষ পর্যন্ত স্বমূর্তিতে আত্বপ্রকাশ করল আওয়ামী লীগঃ৫ই জানুয়ারীর পর আবার প্রমান করলো জনগনের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা কোনটাই আ: লীগের নেই

image_83157_0দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ প্রতিবেদনঃ কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ,গুলিবর্ষন,ব্যলট বাক্স ভর্তিকরন আর রক্তাক্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হল উপজেলা পরিষদের পঞ্চম বা শেষ দফার ভোটগ্রহণ।শুধুমাত্র প্রথম দফার ভোটে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনীর দাপট কম হওয়াতে মানুষ ঐ উপজেলা গুলোতে ফলাফল প্রত্যাশিত হয়েছিলো।কিনতু তার পর থেকে পতিটি ধাপে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি মদদে চর দখলের মতো আসন দখল দেখেছে জনগন।

শেষ চার দফায় সহিংসতার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শাসক দলের অনিয়মের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড। ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলে রেখে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, সহিংসতা রোধের নামে প্রশাসনের সহযোগিতায় একচেটিয়া জাল ভোট প্রদান এবং প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে দিনভর শাসক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কেন্দ্রে মারমুখী সতর্ক মহড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনিয়মের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। অনিয়মের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ দফায়ও বদল এসেছে নির্বাচনী ফলের চিত্রে। তৃতীয় ও চতুর্থ দফার মতো এ দফায়ও চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ও জামায়াতের থেকে এগিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগ ৫২ , বিএনপি ১২ ও অন্যান্য ৯ টি উপজেলায় জয় পেয়েছেন। চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে সহিংসতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে একই ধরনের শঙ্কা নিয়ে ভোট শুরু হলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক ভোটকেন্দ্রে ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটেছে। আগের দফাগুলোয় বিভিন্ন কেন্দ্রে শাসক দলের লোকজন জাল ভোট দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এ দফায়ই প্রথম বেশ কিছু উপজেলার অনেক কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ ভোটার বা সমর্থকদের ঢুকতেই দেয়নি সরকারদলীয় লোকজন। আগের দিন রাতেই দলীয় প্রার্থীর ব্যালটে সিল মেরে ভরে রাখা হয়েছিল ব্যালট বাক্স। যেসব কেন্দ্রে জাল ভোটে বাধা এসেছে, সেসব কেন্দ্র থেকে মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে বিরোধী প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের। অভিযোগ উঠেছে ভোট ডাকাতিরও। ভোট দিতে না পেরে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিক্ষুব্ধ ভোটারদের নীরবে বের হয়ে আসতে হয়েছে।

ভোট শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী সহিংসতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগের এক নেতা প্রাণ হারান। গুলিবিদ্ধ হন আরও দুইজন। অনিয়মের প্রতিবাদে ভোট বর্জন করে পথে নেমে এলে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হলেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা-এমন অভিযোগ করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, প্রার্থী ও স্থানীয়রা। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩৪ জেলার ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়। এর ফলে মোট ৪৮৭ উপজেলার মধ্যে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হল ৪৫৯ উপজেলার নির্বাচন। এর মধ্যে গত চার দফায় অনুষ্ঠিত ৩৮৬ উপজেলার নির্বাচনে ৩৮২টির ফলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৭২, বিএনপি ১৪১, জামায়াত ৩৩ ও জাপা তিনটিতে জয় পায়। তৃতীয় ও চতুর্থ দফার মতো পঞ্চম দফায়ও জয় পেতে মরিয়া ছিল শাসক দল।

অনেক বেশি তত্পর ছিলেন দলের মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতারা। দলের হাইকমান্ড থেকে প্রাপ্ত নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ও বিদ্রোহ দমনে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন স্থানীয় সাংসদরা। গত তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় যেসব এলাকায় দখল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ বলেছিল, এ দফার নির্বাচনেও তাদের ফল ভালো হবে। অন্যদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার জয় পুনরুদ্ধারে এ দফায়ও মরিয়া ছিল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে অন্য দফার মতো জামায়াতকে নিয়ে বিশেষ নির্বাচনী কৌশল এঁটেছিল বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে যেকোনো উপায়ে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দলের নেতাকর্মীদের। ইতোপূর্বে সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে, নির্বাচন হতে যাওয়া এমন উপজেলাগুলোয় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে জামায়াতে ইসলামীও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শাসক দলের একচেটিয়া ভোটকেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয় দফা থেকেই উপজেলা নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। চতুর্থ দফায় এসে তা তলানিতে ঠেকে। শেষতক পঞ্চম দফায় একচেটিয়া ভোট জালিয়াতির উত্সব-এ নির্বাচন নিয়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি করল মানুষের মনে। তাই তৃতীয় ও চতুর্থ দফার মতো গতকালও নির্বাচনী ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উত্সাহ ও উদ্দীপনা ছিল না। মানুষের মুখে মুখে ছিল অনিয়মের গল্প। উদ্বিগ্ন সময় কেটেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলার মানুষের। জয়-পরাজয়ের চিত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্বাচনী পরিবেশ

। বিশেষ করে অনিয়মের মধ্যে শাসক দলের জয় প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলল ভবিষ্যত্ নির্বাচন নিয়েও। নির্বাচন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনকে শাসক দলের নেতাকর্মীদের কেন্দ্র দখলের মহাযজ্ঞ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই ইসির অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। ভোট প্রদানের শুরু থেকেই অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ আসতে থাকলেও অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ছিল না ইসির কোনো মনিটরিং ব্যবস্থাও। স্থানীয়দের মতে, কমিশন সতর্ক হলে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটত না। কিন্তু নির্বাচনী মাঠে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে ইসি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। অনিয়মের কারণে এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। তিন উপজেলার ৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অনিয়ম রোধে কার্যকর আর কোনো ব্যবস্থা নিতে শোনা যায়নি। অথচ অনিয়মের অভিযোগ এনে ১৯ উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোয় পালিত হচ্ছে হরতাল। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ ইসি। ইসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, গতবারের (চতুর্থ দফা) তুলনায় এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

বিজয়ী যারা আওয়ামী লীগ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শহিদুল ইসলাম জেমস (ভোট ৩৬,৩০৫), নিকটতম বিএনপির কাজী মনসুরুল কাদের টুটুল (ভোট ১৮,০১৪)। পাকুন্দিয়ায় রফিকুল ইসলাম রেনু (৪৬,৯৯৫), নিকটতম বিএনপির আকতারুজ্জামান খোকন (৪৪,২৯৯)। ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল (৫৯,৫৭৭), নিকটতম বিএনপির নূর আহম্মদ মজুমদার (১০,৫০৭)। মৌলভীবাজারের জুড়িতে এমএম মুমিত আসুক (২৯,০৮৩), নিকটতম বিএনপির নাসিরউদ্দিন মিঠু (২৩,৪৫২)। রাজনগরে আসকীর খান (২৬,৪৩৩), নিকটতম বিএনপির জামি আহমদ (১৯,৩৯৪)। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এবিএম নুরুল ইসলাম (২১,৩০৫), নিকটতম স্বতন্ত্র শেখ নজরুল ইসলাম (১৫,১৭৬)। রাঙামাটির রাজস্থলীতে উথিন সিন মারমা (৪,১৫৩), নিকটতম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পুলুখই মারমা (৩,৬১৭)। পাবনার বেড়ায় আবদুর কাদের (৬৮,৮৪১), নিকটতম বিএনপির ফজলুর রহমান ফকির (৩৯,১০৭)। সাতক্ষীরার দেবহাটায় আবদুল গণি (৫৩,১৭২), নিকটতম জামায়াতের মাহাবুবুল আলম (৭,৫৫০)। জামালপুরের মাদারগঞ্জে ওবায়দুর ইসলাম বেলাল (১,৩২,২৩০), নিকটতম বিএনপির ফায়েজুল ইসলাম (৯,৯৫১)। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী (৮১,৩৮১), নিকটতম অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া (১৩,১৪৬)। চুয়াডাঙ্গা সদরে আশাদুল হক বিশ্বাস (১,৪০,৫০৩), নিকটতম বিএনপির মজিবুল হক মালিক মজু (১৯ হাজার)। বরগুনার আমতলীতে জেএম দেলোয়ার হোসেন (৫৮,০২৪), নিকটতম বিএনপির জালাল আহমেদ (২,৫৭২)। বামনায় সাইদুল ইসলাম লিটু (৩১,০৩৩), নিকটতম বিএনপির সৈয়দ মনজুরুল রব মর্তুজা (৩,৭৩৩)। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ইউনুস ইসলাম তালুকদার (৮৮,১৮৭), নিকটতম বিএনপির আবদুল কাদের কবির উজ্জ্বল (৩৩,৬৮৪)। মির্জাপুরে মীর এনায়েত হোসেন মন্টু (৭৮,২৭১), নিকটতম বিএনপির মৃধা নজরুল ইসলাম (৬৭,৬৩৯)। ময়মনসিংহের নান্দাইলে আবদুল মালেক চৌধুরী স্বপন (৬৯,১২১), নিকটতম বিএনপির ফরিদা ইয়াসমিন (৩৬,৯৪৩)। কক্সবাজারের টেকনাফে জাফর আহমেদ (৩০,৬৭০), নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৩,৬২৯)।< মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ওসমান গণি তালুকদার (৮২,৩২২), নিকটতম বিএনপির শাজাহান খান (৭,৪৮৪)। টঙ্গীবাড়িতে ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ (৬১,৫৬০), নিকটতম বিএনপির আলী আজগর রিপন (২৯,৫১২)। বিএনপি< রাঙামাটির লংগদুতে মো. তোফাজ্জল হোসেন (৯,৮৪৩), নিকটতম বিদ্রোহী হাজী ফয়েজুল আজিম (৮,৬৭১)। কক্সবাজারের উথিয়ায় সরওয়ার জাহান চৌধুরী (৪১,৯৭৮), নিকটতম আওয়ামী লীগের হুমায়ুন কবির চৌধুরী মন্টু (২৮,৮৮৬)। অন্যান্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহবুব মোর্শেদ লিটন (৫০,৭৪৪), নিকটতম আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন আহমেদ (১৭,১০৪)। রাঙামাটির বিলাইছড়িতে জেএসএসের শুভ মঙ্গল চাকমা (৫,৫০৩), নিকটতম আওয়ামী লীগের জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা (৩,২৭৯)।

Share this post

scroll to top
error: Content is protected !!