জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথেই এগুচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

EU-commission-e1404907479138কর্মস্থলে পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই সুর মেলাচ্ছে ইউরোপ। তাদের বাজারে অগ্রাধিকার সুবিধা (জিএসপি) ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে অপরিহার্যভাবেই আরও কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।

বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শ্রমআইন সংস্কার, প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শক নিয়োগ এবং অর্থপূর্ণ সহযোগিতার মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। জিএসপি সুবিধা ধরে রাখতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

‘স্টেয়িং এনগেইজড অ্যা সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট- ওয়ান ইয়ার অন’ শিরোনামের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে নিবন্ধন দিতে অস্বীকৃতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির রিপোর্টগুলো বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পোশাক কারখানাগুলোতে অবশ্যই পরিদর্শন অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়টি নিশ্চিতের পরপরই দ্রুত সে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন (বিএলএ) সংশোধনেও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উচিৎ অবশ্যই কারখানা পর্যায়ে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে রক্ষা করা।

বাণিজ্য বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ক্যারেল ডে গুচৎ এবং এমপ্লয়মেন্ট, সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইনক্লুশনের কমিশনার লাজলো অ্যান্ডর এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

রানাপ্লাজা ধসের পর বিদেশি যেসব খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেছে এবং সহযোগিতা করছে তাদের প্রশংসাও করেন ওই দুই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কর্ম পরিবেশের উন্নতির ইস্যুগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সে লক্ষ্যে গত বছরের জুলাইয়ে আইএলওর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ গঠন করে।

এই ‘কম্প্যাক্ট’ তৈরি পোশাক ও নিট খাতে শ্রমিক অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তার উন্নয়নে কাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার ছিল কম্প্যাক্টের প্রথম বর্ষপূর্তি। বাংলাদেশে কর্মপরিকল্পনা ও কমপ্যাক্টের মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের হাজার হাজার কারখানা পরিদর্শন শুরু হয়েছে। সরকার কিছু কারখানার কাজ বন্ধ করেছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ অনেক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।


Posted

in

,

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *