ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে তিন দফায় ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে চতুর্থ দফায় ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর আলমের সাত দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ আসামিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের মামলায় দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো। তবে এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পরে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চার দফায় মোট আঠারো দিন রিমান্ডে নেওয়া হলো।
এদিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পনেরো বারের বেশি বাংলাদেশে আসা যাওয়া করে কখনো ট্যুরিস্ট কখনো বিজনেস ভিসায়। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে তার তথ্য গরমিল এবং ভাঙা ভাঙা।
কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল ডকুমেন্টস যা পাচার নিষিদ্ধ তা সে পাচার করে বলে দাবি পুলিশের। এসবের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা এবং সার্বিক সহযোগীদের তথ্য উদঘাটনে তাকে ফের সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলার অভিযোগে বলা হয়, সে ভারতের হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদে উল্লেখ আছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে ১০/১২ বছর ধরে বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছে। সে ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি সংস্থার কাছে তথ্য পাচার করে এসেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। আরো বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে।

