ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাগার থেকে মুক্তির দাবিতে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে এক বিশাল ‘লং মার্চ’ শুরু করেছে তাঁর হাজার হাজার সমর্থক।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখাওয়া (KPK) থেকে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পিটিআই-শাসিত প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে বিশাল গাড়িবহর ও সমর্থকরা একাধিক এলাকা অতিক্রম করে সরাসরি রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন।
সোহেল আফ্রিদির হুঙ্কার ও ব্যর্থ সমঝোতা আলোচনাঃ
লং মার্চ চলাকালে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, কারারুদ্ধ সর্বাধিনায়ক ইমরান খানকে মুক্ত করতে দেশপ্রেমিক জনগণকে রাজপথে নামতে হবে:
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কারণ: প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি পালনের কথা থাকলেও সরকারের সাথে সমঝোতা আলোচনার কারণে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ‘সন্ত্রাসবিরোধী নীতি’সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক ইস্যুতে সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় পিটিআই রাজপথের আন্দোলন শুরু করে।
রাজনৈতিক বন্দির দাবি: ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে কারাগারে বন্দি। বেশিরভাগ মামলায় সাজা স্থগিত বা বাতিল হলেও অবশিষ্ট মামলা থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দি রাখা হয়েছে বলে দাবি পিটিআইয়ের। তবে সরকার ও সামরিক বাহিনী আদালতের নিরপেক্ষতার কথা বলে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কনটেইনারের দুর্গ ও নিরাপত্তার কড়াকড়িঃ
পিটিআইয়ের রাজপথের এই দীর্ঘ মার্চ রুখে দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও এর প্রবেশপথগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে:
কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ: রেড জোন, প্রধান সড়ক ও হাইওয়েগুলোতে শত শত বিশাল শিপিং কনটেইনার বসিয়ে পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হাজারো বাহিনী মোতায়েন: রাজধানী সুরক্ষায় নামানো হয়েছে হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর (Paramilitary) সদস্য।
কঠিন বার্তা: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন—কোনো অবস্থাতেই মিছিলকারীদের রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ইসলামাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এবং ২০২৩ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই ইমরান খান ও ক্ষমতাসীন দলের এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন চরম উত্তেজনার মোড় নিয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে পিটিআই বহর ইসলামাবাদে ঢুকতে পারে কি না, সেদিকেই নজর পুরো দক্ষিণ এশিয়ার।

