ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিট। গুলশানে একত্রিত হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। মাত্র ১ মিনিটের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেন দলটির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী। নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কীভাবে তারা একত্রিত হলেন- তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
বিশেষ করে গুলশানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামনে এসেছে সংস্থাগুলোর পুরোপুরি ব্যর্থতার চিত্র। মূলত পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করেই গুলশানে আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলশানে ঝটিকা মিছিলের আগের রাতে এর রুট প্ল্যান নির্ধারণ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এজন্য রাতেই অনলাইনে মিটিং করেন দলের নেতাকর্মীরা। নেওয়া হয় মিছিলের বিশেষ প্রস্তুতি। মিটিং শেষে তারা অনলাইনে বেশকিছু চ্যাটিং করেন।
এতে গুলশান থানার বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহযোগিতার আশ্বাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও মিছিল স্থলে কোনো পুলিশ সদস্য না থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। উলটো পুলিশ সদস্য তাদের ব্যাকআপ দেবে বলে তাদের চ্যাটিংয়ে উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে মিছিলের সময় কোন কোন এলাকায় পুলিশ থাকবে না- তাও তাদের নিশ্চিত করা হয়। মূলত ওই বৈঠক থেকে পরদিন গুলশানের মিছিলের রুট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হয়। এ বিষয়টি জানতেই পারেনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
আওয়ামী লীগের মিছিলের পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে গুলশান থানা পুলিশ। অনুসন্ধানে তাদের নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়ে সত্যতাও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঘটনার দিন কেন একটি ইউনিটকে ডিউটিতে রাখা হলো, দুটি ইউনিটকে কেন প্যারেডে পাঠানো হয়েছিল, কেন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন না, কেন সাদা ও সিভিল পোশাকে রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন না- এসব প্রশ্নও উঠছে। যদিও এ ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। আর ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।
পুলিশ হয়তো ধারণা করতে পারেনি জুমার নামাজের সময় তারা এমন জমায়েত করতে পারে। তবে মিছিলের আগে পুলিশের কাছে যদি এমন তথ্য থাকতই তাহলে কেন আগে থেকে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) মনিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, গুলশান একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকেন। এই স্থানে বেশি নজরদারি করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

