ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকার চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।
এর আগে এনসিপির নেতারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে গাড়িবহর নিয়ে শ্রীমঙ্গল হয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। বহরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, আতিক মোজায়েদ এমপি, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা গাড়িবহরটি আটকে রাখে। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে প্রকাশ্যে হামলার চালানো হয়। হামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় সারজিস আলমসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এনসিপির দাবি, স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষ হবিগঞ্জে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করেন এনসিপির নেতারা। তবে শ্রীমঙ্গলে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে হবিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি বলেন, ‘চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে আমরা তাদের বুঝিয়ে হবিগঞ্জে না যাওয়ার অনুরোধ করি। আগের দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের শ্রীমঙ্গলেই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয় এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হয়। তবে তারা আমাদের অনুরোধ না মেনে ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে চলে যান।’



