ক্যাপ্টেন(অবঃ) মারুফ রাজুঃ আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনাক্যাম্প পরিদর্শন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করেছেন।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এবার রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। সেনাপ্রধান পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের পরিবহনের জন্য সামরিক হেলিকপ্টার এবং জলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সেনাসদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এবারই প্রথমবারের মতো সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহল দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২টিতেই ৫৪৪টি অস্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে চলা বিশেষ অভিযানে সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ৩ লাখ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২১ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে গুজব বা অপতথ্য ছড়ানোকে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। সেনাপ্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সেজন্য সেনাবাহিনী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্য ব্যারাকে রেখে বাকি সবাইকে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধেও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।


