গাজিপুরে হাসপাতালের বিল দিতে না পেরে ২৫ হাজার টাকায় সদ্যজাত সন্তান বিক্রি।

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ হাসপাতালের বিপুল পরিমান বিল পরিশোধ করতে না পারায় সদ্যজাত সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক দম্পতি। এরপর সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা।

বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আসলে ওই শিশুটিকে তার বাবা-মার কাছে ফেরত এনে দেয়া হয়।

শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি এলাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

প্রসূতি কেয়ার স্বামীর নাম মো. শরীফ। তারা এনায়েতপুর এলাকা বসবাস করেন। দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

শনিবার গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই দম্পতি পোশাক কারখানার কর্মী। দারিদ্রতার অভাবে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারছিলেন না। পরে তাদের সন্তানটিকে বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফিরে যান তারা।

যাদের কাছে সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ওই সন্তানকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ২১ এপ্রিল গর্ভবতী অবস্থায় কেয়া খাতুন নামে এক নারী কোনাবাড়ী এলাকায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই সিজারের মাধ্যমে তার একটি ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।

কেয়া খাতুন ওই হাসপাতালে ১১ দিন ভর্তি ছিলেন। এতে হাসপাতালের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা। এত টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির। একপর্যায়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে সন্তান বিক্রি করতে সিদ্ধান্ত নেন।

পরে শুক্রবার ২৫ হাজার টাকায় তাদের ১১ দিন বয়সের ছেলে সন্তান বিক্রি করে দেন। সন্তান বিক্রির সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফিরে যান ওই দম্পতি।

পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজি) (এসবি) শহিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করেন।

একপর্যায়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন নিজ পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে শুক্রবার ওই শিশুটিকে ফেরত আনেন।

এরপর তিনি মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির সন্তানকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top