প্রথম বাংলাদেশ প্রতিবেদনঃ গতকাল ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনার নেপথ্যে যা জানা গেছে:
বিশেষ কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ করা হয়নি। যা ঘটেছে, তা হলো নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া আরজু এবং মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জায়গা, প্লট এবং রাস্তা ব্যবহার সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রে ১৫০–২০০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দলের সশস্ত্র হামলা এবং নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত স্টুডিওসহ একাধিক যানবাহন ভাঙচুর।
এই ঘটনার কয়েক দিন আগে মিরপুরের শাহাদাত গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত এক ব্যক্তি রাস্তা ব্যবহার নিয়ে নিউগিনির নাজিম উদ্দিনকে ফোনে হুমকি দেন। কাছাকাছি সময়ে শাহাদত গ্রুপের শুটার সোহেল নামক এক ব্যক্তি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং ছায়ানীড় অ্যাপার্টমেন্টের মালিক মতিউর রহমানের হয়ে নাজিম উদ্দিনকে পুনরায় হুমকি দেন এবং সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের একজন আত্মীয়ের (ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও মালিকের স্ত্রী’র মামা) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দাবি করে তাকে শাসায়।
২০১০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্টনমেন্ট থানার রুকন সদস্য নাজিম উদ্দিন একসময় থাই গ্লাস ও বিভিন্ন স্ক্র্যাপের কাজ করতেন; সে সময় তার সখ্যতা তৈরি হয় স্থানীয় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আব্বাসের সঙ্গে।
হাজি আব্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নাজিম উদ্দিন বিভিন্ন জায়গা দখল করেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবে অবৈধ জায়গা দখলের অভিযোগে তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২১ সালে নাজিম উদ্দিন গুলশান আজাদ ইউনিট আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা পদ লাভ করেন।
এদিকে তার প্রতিপক্ষ মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আওয়ামী লীগের শাসনামলে যুবলীগ নেতা মইনুল খান নিখিলের সঙ্গে জায়গা-জমির ব্যবসা করতেন। তার নামেও প্রভাব খাটিয়ে একাধিক জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন এবং এই দুই ব্যক্তির দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।
এমতাবস্থায় গতকাল রাতে ৪টি ট্রাকে প্রায় ১৫০–২০০ লোকের সমাগম ঘটানো হয় দুই পক্ষের বিবাদের কেন্দ্রে থাকা ৩৫ কাঠার একটি জমি দখল নিতে। এ সময় কেবল একটি স্টুডিও ভাঙচুর হয়েছে—বিষয়টি শুধু তা নয়; এর সঙ্গে একাধিক গাড়ি ও প্লটে থাকা অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগত ব্যক্তিদের কয়েকজন অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালানো হয়। স্টুডিও মালিকের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এই তথ্য আগত সন্ত্রাসীদের দৃশ্যত আরও হিংস্র করে তোলে।
বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া আরজু এবং মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উভয়ই জমির ব্যবসা এবং অবৈধ জমি দখলের সঙ্গে জড়িত; অতীতেও এই দুই পক্ষ একাধিকবার বিবাদে জড়িয়ে ওই এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এহেন হামলা এটাই স্পষ্ট করে যে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা নাজুক অবস্থানে রয়েছে।
কৃতজ্ঞতাঃ জনাব জুলকারনাইন সায়ের সামী
যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক।

