জাতিসংঘে বাবা-মায়ের মতোই ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ভাষন শুরু করলেন তারেক রহমান

 

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য শুরুর আগে প্রথাগতভাবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করার এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বাংলাদেশের তিন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান— শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে নিজেদের ভাষণের সূচনাতেই ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটিয়ে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুসলিম বিশ্বের সংহতি ও বাংলাদেশের স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় তুলে ধরেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার জাতিসংঘে বক্তব্য দেন। বিশ্বশান্তি, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার আগে তিনিও প্রথাগতভাবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করে ভাষণের সূচনা করেন।

একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শুরুতেই ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চারণ করেন। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনার আগে তার এই সূচনা দেশে ও প্রবাসে ব্যাপক প্রশংসিত ও আলোচিত হয়।

আন্তর্জাতিক ফোরামে বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতৃবৃন্দ—যেমন তুরস্কের রজপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কিংবা ফিলিস্তিনের মাহমুদ আব্বাস বক্তব্য শুরুর আগে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান থেকে শুরু হয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাত ধরে জাতিসংঘে এই রীতির চর্চা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধারাবাহিকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

Share this post

scroll to top